মেইন ম্যেনু

শিশু খেতে চায় না কেন?

h_29524_1478149091

শিশুরা খেতে চায় না, প্রতিদিন তাকে জোর করে খাওয়াতে হয়। তার পিছনে খাবার নিয়ে বাড়িময় ঘুরে বেড়াতে হয়। তারপরও খাবার খেতে চায় না। ফলে শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগে এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। প্রায় সব পরিবারে শিশুকে নিয়ে মা-বাবার একই অভিযোগ করেন।

শিশুর স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে, বসতে শেখার পরপরই শিশুকে খাবার খেতে অভ্যস্ত করতে হয়। বিভিন্ন খাবারের রং, ধরন, গন্ধ শেখার পাশাপাশি তা ধরতে ও খাওয়ার মাধ্যমে শিশু খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে।

শিশুকে কখনোই জোর করে কিংবা বকা দিয়ে বা মারধর করে খাওয়ানো যাবে না। উৎসাহ দিয়ে ও প্রশংসা করে শিশুকে খাওয়াতে হবে। শিশু কখনো কখনো নিষ্ক্রিয় থাকে, সেসব সময় তার খাবারের চাহিদাও কমে আসে।

আসুন জেনে নিই শিশুরা কেন খেতে চায় না?

শিশুর ক্ষুধা

ক্ষুধা না থাকলে শিশুরা খেতে চায় না। ক্ষুধা না থাকলে একই ভূমিকা বড়রাও করে থাকেন।

অসুস্থতা

শিশুরা অসুস্থ হলে খেতে চায় না। এটা আমরা কমবেশি সবাই জানি। খেতে না চাওয়ার ব্যপারে জন্মগত শারীরিক ত্রুটি এবং সাধারণ অসুখ-বিসুখকে দায়ী করা যায়। শারীরিক ত্রুটিগুলোর মধ্যে শিশুর ঠোঁট, জিহ্বা, তালু, খাদ্যনালী বা পরিপাকতন্ত্রের ত্রুটি উল্লেখযোগ্য। সাধারণ অসুখগুলোর মধ্যে সর্দি-কাশি-জ্বর এবং ডায়রিয়া বেশি ভোগে শিশুরা। তবে কিছু জটিল রোগও থাকতে পারে, যেমন- ফাইব্রোসিস্টিক ডিজিস, পিত্তনালীর সমস্যা ইত্যাদি।

শিশুর রুচি ও উপযোগী

শিশুর খাবারটি অবশ্যই তার জন্য উপযোগী হতে হবে। তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার উপযোগী।

শিশুরা পছন্দ করে না বেশি মশলা ও ঝালযুক্ত খাবার, শক্ত খাবার, তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার যেমন : শুঁটকি, গরু-ছাগলের ভুঁড়ি, করলা, তেঁতুলের টকযুক্ত খাবার।

শিশুর ভয়

শিশুরা ভয় পেলেও খাবার খেতে অনিহা প্রকাশ করে। তারা বিভিন্ন কারণে ভয় পেতে পারে যেমন : পরিচিত পরিবেশ বা লোকজনের বাইরে অন্য কোনো পরিবেশে যাওয়া, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বা মারামারি দেখে বা ভয়ংকর কোনো দৃশ্য দেখে শিশুরা ভয় পেতে পারে।

শিশুদের খাওয়ার ব্যপারে সতর্কতা

* শিশু নিয়মমতো এবং স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব-পায়খানা করছে কিনা লক্ষ্য করুন। সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর, ডায়রিয়া, শিশুর ঠোঁট, জিহ্বা এবং মুখের ভেতরে ঘা দেখলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

* শিশু খাবারের মাঝে বা পরে বমি করছে কিনা তা দেখুন। খাবারের পর শিশু স্বাভাবিক আচরণ করে কি না খেয়াল করুন।

* শিশুর পেটে ব্যথা হচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন।

* শিশুকে খেলাধুলা, লাফালাফি, চেঁচামেচি মানে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে দিন।