মেইন ম্যেনু

শেষ বলে উইকেট বিলিয়ে দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

bangladesh20161029172136

আর বাকি মাত্র একটি বল। এটিও কোনমতে ঠেকাতে পারলে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা বাংলাদেশের হয়েই থাকবে। ২৪ রানে পিছিয়ে থেকে শুরু করে ১২৮ রানের লিড। চাট্টিখানি কথা নয়। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশের রান তখন ২ উইকেট হারিয়ে ১৫২।

ইমরুল হাফ সেঞ্চুরিটা আগেই করে ফেলেছিলেন। মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরি হতে প্রয়োজন আর তিন রান। একটা বাউন্ডারি মারলেই হাফ সেঞ্চুরিটা হয়ে যায়। অসাধারণ একটি অর্ধশতক নিয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার প্রশান্তিটাই অন্যরকম! সেই ভাবনাতেই কি না জাফর আনসারির নিচু হয়ে আসা বলটির গুনাগুণই বিচার করলেন না রিয়াদ। খেললেন ক্রস ব্যাটে। ব্যাট-প্যাড উভয়ই ফাঁকি দিয়ে বল সোজা আঘাত করলো স্ট্যাম্পে।

দিনের একেবারে শেষ বলেই বোল্ড হয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। স্রেফ উইকেটটা থ্রো করে আসলেন তিনি। তার মত দায়িত্বশীল এবং সিনিয়র একজন ব্যাটসম্যান এতটা দায়িত্বহীন শট খেলে বোল্ড হয়ে যাবেন, সেটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সমর্থকরা। শেষটা যেখানে হতে পারতো পুরো বাংলাদেশের। সেটা নিজ হাতেই মাহমুদউল্লাহ তুলে দিলেন ইংল্যান্ডের হাতে। কী আত্মঘাতি! এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্তুগুলোর কারণেই প্রায় জিততে বসা ম্যাচগুলো হেরে যায় বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশ শেষ করলো ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়েই।

অথচ ৬৫ আর ৬৬ রানের মাথায় যখন তামিম আর মুমিনুলের উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে বসেছিল বাংলাদেশ তখন ইমরুল আর মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দু’জনের ৮৬ রানের দুর্দান্ত জুটি স্বপ্নই দেখাতে শুরু করে টাইগারদের। ইমরুলের ৮১ বলে ৫৯ আর মাহমুদউল্লাহর ৪৭ রানের ইনিংস পুরো ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে; কিন্তু একটি মাত্র ভুল। এই ভুলেই দিনের শেষ আলোটা কেড়ে নিলো ইংল্যান্ড।

এর আগে প্রথম ইনিংসেও অন্তত ৪০-৫০ রানের লিডের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের। সেই স্বপ্ন সম্ভবের দ্বারপ্রান্তেও চলে গিয়েছিল মুশফিকরা; কিন্তু ইংল্যান্ডের লেট অর্ডারে দুই ব্যাটসম্যান আদিল রশিদ আর ক্রিস ওকস সেই স্বপ্ন ভেঙে খান খান করে দিলো। ৯৯ রানের জুটি গড়ে উল্টো ইংল্যান্ডকেই ২৪ রানের লিড এনে দিল তারা দু’জন।

শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে যবনিকাপাত ঘটলো ইংল্যান্ডের। ২৪৪ রানে অলআউট হলো সফরকারীরা। ২৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলো বাংলাদেশ।

ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক আক্রমণের সূচনা করলেন পেস আর স্পিন মিলিয়ে। স্টিভেন ফিন আর মঈন আলিকে দিয়ে শুরু করালেন দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ। দুই প্রান্তে দুই ধরনের বোলিং। তাতে অবশ্য দমে গেলেন না প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল। বরং, ইমরুল কায়েসকে নিয়ে শুরু থেকে খড়গহস্ত হলেন ইংলিশ বোলারদের ওপর।

দুই ওপেনার তামিম-ইমরুল মিলে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালোই সূচনা এনে দিলেন বাংলাদেশকে। ইংল্যান্ডের নেয়া ২৪ রানের লিড শুধু পারই হননি। দ্রুত বাংলাদেশকেও লিড এনে দিলেন তারা দু’জন। ৬৫ রানের জুটি গড়ার পরই তামিমের এক ভুলে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য হন এ দু’জন। এরপর আউট হয়ে গেলেন মুমিনুলও।

প্রথম ইনিংসে তাদের দু’জনের ব্যাটে ভর করেই বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল আর মুমিনুল হক মিলে গগেছিলেন ১৭০ রানের বিশাল জুটি। এই এক জুটির পরই অবশ্য তাসের ঘরের মত ভেঙে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

সেই তামিম আর মুমিনুল দ্বিতীয় ইনিংসে এক সাথেই হতে পারলেন না। জুটি বাধা তো দুরে থাক। ২৪ রানে পিছিযে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। তামিম আর ইমরুল মিলে বিনা উইকেটেই গড়ে ফেলেন ৬৫ রানের জুটি।

ইংলিশ বোলারদের উল্টো ভড়কে দিতেই হয়তো ঝড়ো গতিতে ব্যাট করার শুরু করেছিলেন তামিম। তাতে কিছুটা যে সতর্ক হওয়াও প্রয়োজন ছিল সেটা মুহূর্তের জন্য ভুলে গেলেন তিনি। তাতেই কর্ম সারা। অভিষিক্ত জাফর আনসারির বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে লেগ স্লিপে সহজ ক্যাচ তুলে দিলেন কুকের হাতে। ৪৭ বলে খেলেছেন ৪০ রানের ইনিংস। ছিল ৭টি বাউন্ডারির মার।

আগের ইনিংসে ৬৬ রান করা মুমিনুল নামলেন এক বুক ভরসা নিয়ে; কিন্তু মাঠে নেমে থিতুই হতে পারলেন না তিনি। নিজের প্রথম বলে নিয়েছিলেন এক রান। পরের ওভারে স্ট্রাইকে এসে মোকাবেলা করতে গেলেন বেন স্টোকসকে। দারুন এক রিভার্স সুইং দিলেন স্টোকস।

লাইনে পড়ে আউট সুইং করে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার মুখেই ব্যাটের খোঁচা লাগালেন মুমিনুল। সোজা ব্যাট চুমি দিয়ে বল চলে গেলো প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো কুকের হাতে। ৬৬ রানের মাথায় পড়লো দ্বিতীয় উইকেট। ১৭০ রানের জুটি, দ্বিতীয় ইনিংসে কেবলই হতাশা উপহার দিলো। পর পর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ২২০/১০, ৬৩.৫ ওভার (তামিম ইকবাল ১০৪, মুমিনুল হক ৬৬, মাহমুদউল্লাহ ১৩, সাকিব আল হাসান ১০; মঈন আলি ৫/৫৭, ক্রিস ওকস ৩/৩০, বেন স্টোকস ২/১৩)।

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ২৪৪/১০, ৮১.৩ ওভার (জো রুট ৫৬, ক্রিস ওকস ৪৬, আদিল রশিদ ৪৪*, জনি বেয়ারেস্টো ২৪, অ্যালিস্টার কুক ১৪; মিরাজ ৬/৮২, তাইজুল ৩/৬৫, সাকিব ১/৪১)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : ১৫২/৩, ৩১ ওভার (ইমরুল কায়েস ৫৯*, মাহমুদউল্লাহ ৪৭, তামিম ইকবাল ৪০, মুমিনুল ১; জাফর আনসারি ২/৩৩, বেন স্টোকস ১/২০)।