মেইন ম্যেনু

সন্তান বড় করার ক্ষেত্রে এই বড় ৩টি ভুল করছেন না তো?

23

প্রতিটি বাবা-মা ই চান তাদের সন্তান হোক সবার সেরা। সবচেয়ে ভাল ছাত্র, সবচেয়ে ভাল ক্রীড়াবিদ, সবেচেয়ে ভাল বক্তা- সন্তানের জন্য সব জায়গায় প্রথম স্থানটি পছন্দ করি আমরা। কিন্তু নিজেরাই এমন কিছু ভুল কাজ করি যা আমাদের সন্তানকে করে তোলে নির্ভরশীল। শিশুর নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা তৈরিতে আপনি নিজেই বাধা হয়ে যাচ্ছেন না তো? বিভিন্ন গবেষণায় অভিভাবকের সন্তানকে গড়ে তোলার মনস্তত্ত্ব গবেষণা করে দেখা গেছে এই ৩টি মারাত্মক ভুল করছেন অধিকাংশ বাবা মায়েরাই। আসুন জেনে নিই এগুলো-

আমরা ঝুকি নিতে ভয় পাই
আধুনিক বাবা-মায়েরা সন্তানকে নিয়ে যেন সবসময়ই ভয়ে থাকেন।খাবারে ভেজাল। কোন খাবার খেলে আবার কী থেকে কী হয়! মাটিতে জীবণু। খালি পায়ে হাটা যাবে না। আমাদের ভয় আমাদের সন্তানদের চারপাশে তৈরি করে ‘না’ এর দেয়াল। তাকে কোন সিদ্ধান্ত একা নিতে দেওয়া হয় না। সবকিছুতেই নিজে এগিয়ে গিয়ে পথ তৈরি করে দেওয়া হয়। তার সব কাজ হতে হবে একদম পারফেক্ট! কিন্তু সে তো ছোট মানুষ, পারছে না। অনেক সময় বাবা-মায়েরাই নিজেই করে দিচ্ছেন সে কাজ। কম্পিউটার ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না, এর অপব্যবহারের ভয়ে। খারাপ শেখার ভয়ে রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে তার ভাল কিছু শেখার পথ।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা অতিরিক্ত যত্নের মাঝে বড় হয় তাদের পরীক্ষায় খুব একটা ভাল ফলাফল আনতে পারে না। তাদের সৃজণশীলতাও অনেক কম থাকে অন্য শিশুদের তুলনায়। যুক্তরাষ্ট্রে দেখা গেছে, অসংখ্য বাবা-মায়েরা পার্ক থেকে শিশুদের খেলার দ্রব্যাদি সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কারণ তারা মনে করেন এগুলো না থাকলে তাদের শিশু আর ব্যাথা পাবে না! এমনকি তারা ক্লাসে শিক্ষকদের লাল কালি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদেরকে কোনপ্রকার শাসন না করতে বলেছেন। ভাবুন তো, এই শিশুরা যখন বাইরের পৃথিবীতে কাজ করতে নাম্বে তখন কীভাবে তারা সেখানে নিজেদের অদ্বিতীয় স্থান গড়ে তুলবে? পৃথিবী তো ঝুকিমুক্ত নয়। এখানে অসংখ্য প্রতিকূলতা রয়েছে।

আমরা দ্রুত উদ্ধার করতে এগিয়ে আসি
৩০ বছর আগের মানুষের যেসব জীবনমুখী দক্ষতা ছিল আজকের শিশুদের তা নেই বা থাকবে না।কারণে আধুনিক বাবা-মায়েরা সন্তানকে নিজেই বিপদ থেকে উদ্ধারের পথ খুজতে দেন না। এমকি অসৎ পথে গিয়ে হলেও তারা সন্তানকে প্রথম স্থানে দেখতে চান। এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই দেখা গেছে, ভর্তি পরীক্ষায় সন্তানকে টেকানোর জন্য বাবা-মায়েরা স্বেচ্ছায় ঘুষ দিচ্ছেন। গান-নাচের প্রতিযোগিতায় সন্তানকে প্রথম স্থানে নেওয়ার জন্য বিচারককে প্রভাবিত করার চেষ্টা এখন সাধারণ ব্যাপারে গিয়ে ঠেকেছে।

এভাবে আপনি নিজেই আপনার সন্তানের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছেন। তাকে একজন অসৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছেন। আপনি নিজেই যখন অন্যায় করেন তখন সন্তান অন্যায় করলে সেখানেও আপনি প্রশ্রয় দেবেন এটাই স্বাভাবিক। অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানের হাতে ভুলবশত ঘটে যাওয়া অপরাধকে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ধামাচাপা দিয়ে থাকেন এবং নিজেই তার সন্তানকে একজন অপরাধী হিসেবে গড়ে ওঠার পথ তৈরি করে দেন।

অতিরিক্ত প্রশংসা করে ফেলি
শিশুর বয়স বাড়তে থাকে আর বাস্তবতার মুখোমুখী হতে থাকে সে।একটি ২ বছর বয়সী শিশুকে শাসন করার কিছু নেই। তার ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ারও কিছু নেই। কিন্তু শিশুটি যতই বড় হতে থাকবে তাকে জানতে হবে কোন কাজটা প্রকৃতপক্ষেই ভাল আর কোন কাজটি আরো যত্নের সাথে করা দরকার। এভাবেই সে দক্ষ হয়ে বেড়ে উঠবে।

আপনি যদি অল্পতেই তার প্রতিটি কাজে আকন্ঠ প্রশংসা করতে থাকেন তাহলে সে বুঝতেই পারবে না কাজটিতে তার কোন ভুল আদৌ আছে কিনা! আপনি হয়ত ভাবছেন এভাবে আপনি শিশুটির আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছেন। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন,শিশুটি যখন তার অদক্ষ কাজ নিয়ে বাইরের পৃথিবীর সম্মুখীন হবে তখন তাকে কতটা বিব্রত হতে হবে? তাকে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে দিন। আপনার সন্তানই সবার সেরা এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসুন।