মেইন ম্যেনু

সম্মেলনকে ঘিরে উজ্জীবিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী

aw4

‘উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবার।’ আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় সম্মেলনের ডাক এটি।

স্বপ্ন জয়ের এমন স্লোগানেই আজ জেগে উঠেছে স্বাধীনতার সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সম্মেলনের হাওয়া বইছে গোটা দেশে। সম্মেলনকে ঘিরেই উজ্জীবিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। প্রতিপাদ্য বিষয়ের সঙ্গে তাল রেখেই এবারের সম্মেলনের আয়োজন। প্রচার-প্রচারণায়ও গুরুত্ব পাচ্ছে এগিয়ে যাওয়ার এই প্রত্যয়।

শীর্ষ নেতৃত্বে বিশেষ চমক না থাকলেও সময়, আয়োজন আর বিশ্বাসের গাঁথুনিতে আওয়ামী লীগের এ সম্মেলন যেন সুবর্ণ সুযোগের এক চাদরে ঘেরা। যেন সময় এখন বাংলাদেশের, সময় এখন আওয়ামী লীগের। উন্নয়ন, রাজনীতি, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি এমনকি দলীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্নেও আওয়ামী লীগ আজ স্বমহিমায় আগত। নেতৃত্বের কাঠামোয় সংঘবদ্ধ ঐক্যতায় দলটিকে যেমন উচ্চতার শিখরে অধিষ্ঠিত করেছে, তেমনি দেশকেও উন্নয়নের মহাসড়কে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই বাংলাদেশের ইতিহাস। জন্মের পর থেকেই একেকটি ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ একেকটি ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। ’৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৫৪’র নির্বাচন, ’৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬’র ছয় দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে একক নেতৃত্ব গড়ে তোলে সংগঠনটি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও দলটির অগ্রাধিক ভূমিকা ছিল।

ee8fcaa2dec493b21f755016f5a16acb-3

সৃষ্টির পর থেকেই ভাঙন, নানা ঘাত-প্রতিঘাত আর প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয় দলটিকে। রাজনীতির এক ক্রান্তিকালে ১৯৬৬ সালে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দলে মহাবিপর্যয় নেমে আসে। ১৯৭৬ সালে ঘরোয়া পরিবেশে রাজনীতির সুযোগ পেলেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো ছিল তখন খুবই দুর্বল। এমন ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার আগেই বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

১৯৮৩ সালে আবারো আঘাত আসে দলটির ওপর। তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে দলের একটি অংশ দল ত্যাগ করে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে বাকশাল গঠন করে। এ সময় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৮৭ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

দায়িত্ব পেয়েই বাবার দেখানো পথে দলকে পুনর্গঠন করতে থাকেন শেখ হাসিনা। দলের মধ্যে একক নেতৃত্বে অবস্থান করেন তিনি। দীর্ঘ সংগ্রাম আর আন্দোলনের পর তারই নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসে। দলের সভাপতি পদে থেকেই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে দলকে শক্তিশালী করতে পারলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের কাছে পরাজয় বরণ করে তার দল। ক্ষমতার বাইরে থেকে নিজেদের ভুল শুধরিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ফের গণমানুষের দলে রূপ নেয়।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দলের মধ্যে ফের ভাঙনের সুর বেজে ওঠে। মাইনাস টু ফর্মুলায় শেখ হাসিনাকে দল থেকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। সেই ষড়যন্ত্রে আওয়ামী লীগেরই জ্যেষ্ঠ নেতাদের কারো কারো ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু দলের প্রতি আনুগত্য এবং তৃণমুলের নিরঙ্কুশ সমর্থন থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার হাতেই দলের দায়িত্ব থেকে যায়।

timthumb

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিশাল সংগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন। সরকার গঠনের পর ২০০৯ সালের সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে স্বপদে বহাল রেখে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। সেই কমিটির অধীনেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংবিধান রক্ষার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে। আর শেখ হাসিনা হন তৃতীয় মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী।

সাড়ে তিন দশক ধরে দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা আর ইস্পাতসম মনোবল নিয়েই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিচয় দিয়ে চলছেন শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করছেন বিশ্ব নেতারাও। নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়।

feni320161018150300

বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেন শেখ হাসিনা। সীমান্ত চুক্তি আর সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের দুটি বড় অর্জন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্ব স্বীকৃত। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে শেখ হাসিনা আজ আপসহীন নেতা।

দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্র আর বাধা উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে বৈশ্বিক আলোচনা-সমালোচনায়ও গুরুত্ব পাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে এক দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা, এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। সঙ্গে বাংলাদেশও।