মেইন ম্যেনু

সম্মেলনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিলেন শেখ হাসিনা

2ww

২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে ১০টির বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, দারিদ্র্যের হার এরই মধ্যে ৫৭ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। হত হরদরিদ্র্যের সংখ্যাও ১২ শতাংশের নীচে নেমেছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না।

দলের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনের প্রথম দিন সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এটুকু বলতে চাই ২০৪১ সালে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই। প্রবৃদ্ধি এরই মধ্যে আমরা সাত ভাগে নিয়ে এসেছি। সেই প্রবৃদ্ধি আমরা ৮ থেকে ১০ ভাগে নিয়ে যাবো।’

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় এখন এক হাজার ৪৪৬ ডলার। এই আয় আমরা এমনভাবে বৃদ্ধি করবো যেন এই দেশের মানুষ আর দরিদ্র না হয়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণতন্ত্র অর্জনের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকা, বঙ্গবন্ধু হত্যা, সামরিক শাসন জারি, জাতির জনক হত্যার ছয় বছর পর দেশে ফেরা, ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরা, পাঁচ বছর পর বিরোধী দলে যাওয়ার পর বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্যাতন, ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরা এবং এরপর দেশের উন্নয়নে নেয়া নানা উদ্যোগ উঠে আসে।

দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলির ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে বাংলাদেশে ব্যাপকভিত্তি উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান শেখ হাসিনা। বলেন, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই দেশ গড়ে তুলছে আওয়ামী লীগ। দারিদ্র্যের হার শূন্যে নামিয়ে এনে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে নানা প্রতিশ্রুতির কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

যেসব প্রতিশ্রুতি দিলেন শেখ হাসিনা

১. প্রতিটি মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে এবং এই শিক্ষা হবে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক। কারিগরি শিক্ষা, ভকেশনাল ট্রেনিং যেন পায় এর ব্যবস্থা করা।

২. বাংলাদেশ থেকে পুষ্টিহীনতা দূর করা। যে শিশুটি জন্ম নেবে, সে যেন পুষ্টিময় জীবন পায় সে জন্য এরই মধ্যে মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং মাতৃদুগ্ধ দানকারীদের ভাতা দেয়া শুরু হয়েছে। পুষ্টিহীনতা দূর করে সারা দেশের মানুষ যেন সুস্বাস্থের অধিকারী হয় সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া।

৩. বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ যেন সুপেয় পানি পায় এবং সেনিটেশন ব্যবস্থা উন্নত মানের হয়- সে ব্যবস্থা করা।

৪. তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গঠন করা হবে। সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে, প্রত্যেকটা মানুষ যেন ইন্টারনটে ব্যবহার করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একে একে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করা এবং সবাইকেই কম্পিউটার শিক্ষা দেয়া।

৫. কর্মক্ষেত্রে কোনো নারী পুরুষের বৈষম্য থাকবে না। সকলেই যার যার কর্মস্থলে সমান সুযোগ পাবে-সেটা আমরা নিশ্চিত করা।

৬. জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত থেকে এ মানুষকে মুক্ত করার যে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা।

৭. কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। প্রতি ঘরে আলো জ্বালানো হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এটাকে আরও বাড়য়ে প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া।

৮. সমগ্র বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে শিল্প কল্ কারখানার প্রসার ঘটানো।

৯. আমাদের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ হবে। যাতে করে মানুষ কৃষি কাজের প্রতি উৎসাহ না হারিয়ে ফেলে সে জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার প্রসারিত করা।

১০. প্রতিটি গ্রামে গৃহহারা মানুষদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া। এ জন্য দলের নেতা-কর্মী এবং সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদেরকে হতদরিদ্রদের তালিকা করার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

১১. রাজধানী সঙ্গে গ্রাম পর্যন্ত উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যার জন্য সড়ক পথ, নৌ পথ রেল পথের উন্নতি করা। পাশাপাশি বিমান যোগাযোগের উন্নতি করে বাংলাদেশকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্বের মধ্যে যোগাযোগের হাবে পরিণত করা।