মেইন ম্যেনু

সম্মেলন ঘিরে ঢাকা উৎসবের নগরী

al-council2_28386_1477112450

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ঘিরে পুরো রাজধানীতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা ৬ হাজার ৭শ’ কাউন্সিলর অংশ নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি অতিথি হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, কূটনীতিবিদ, বুদ্বিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবারের জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের স্লোগান হচ্ছে, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা নেতাকর্মীরা ভীড় করছেন সম্মেলন স্থলের আশপাশের এলাকায়।

শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, পল্টন, মৎসভবনসহ আশপাশের পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ঢোল-তবলা করতাল নিয়ে সম্মেলনের আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়া শুরু করেন। এসব নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই সম্মেলন স্থলে প্রবেশের অনুমতি পাননি। তবে এতে তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই।

দলীয় প্রধানের বক্তব্য ও দিক-নির্দেশনা জানতে তারা ভিড় করে আছেন।

ঢোল-করতাল বাজিয়ে এসব নেতাকর্মীরা সম্মেলনের আশপাশের এলাকা জমিয়ে রেখেছেন। অনেকেই স্মৃতির পাতায় আজকের দিনটিকে তুলে রাখার জন্য তুলছেন সেলফি।

মাদারীপুর থেকে আসা মুজিবভক্ত অনিক জানান, আমি জেলার অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ঢাকায় এসেছি। কাউন্সিলে প্রবেশ করতে পারব না জানি, তবু এমন একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার লোভ সামলাতে পারিনি।

কুষ্টিয়া থেকে আগত আওয়ামী লীগকর্মী নাসির বলেন, দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের কাউন্সিলে অংশ নিতেই ঢাকায় এসেছি। উদ্যানে প্রবেশের অনুমতি পাইনি। তাতে কি হয়েছে, কাউন্সিল ঘিরে আগত নেতাকর্মীদের তো কাছে পাচ্ছি। সবার সঙ্গে মিশে সম্মেলনের মজা নিতে পারছি।

এদিকে দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে আগত কাউন্সিলরদের সম্মেলনস্থলে প্রবেশের সময় বরণ করে নেন তাদের জেলার কেন্দ্রীয় নেতারা। রজনীগন্ধা ও গোলাপের স্টিকে তাদের বরণ করে নেয়া হয়। দেয়া হয় পানিসহ অন্যান্য হালকা খাবার।

সম্মেলনস্থল ঘিরে রাজধানীতে নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন এবং ঢাকা শহরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সম্মেলনস্থলে লাগানো হয়েছে প্রায় ১৪০টি সিসি ক্যামেরা।

এ ছাড়া উদ্যানের চারপাশের রাস্তা, নগরের সব কটি প্রবেশপথ এবং অন্যান্য স্থানেও নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল আটটায় জাহাঙ্গীর গেট থেকে শাহবাগ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-সংলগ্ন বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ থাকবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতটি গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত ৫০টি দল কাজ করবে।