মেইন ম্যেনু

সাঁওতালদের ওপর হামলার মামলায় দুই বিএনপি নেতা গ্রেফতার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতাল পল্লীতে হামলার অভিযোগে স্থানীয় দুই বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার তরফকামাল গ্রাম থেকে শনিবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে সরোওয়ার হোসেন (৪১) ও একই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আকবর আলী (৫০)। এদের মধ্যে সরোওয়ার হোসেন সাপমারা ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আকবর আলী একই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক সাজাদুর রহমান সাজু ওই দুইজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামের সাঁওতাল পল্লীতে হামলা চালিয়ে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এই দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।

সাজাদুর রহমানজানান, তারা বিএনপির সঙ্গে জড়িত থাকলেও গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাপমারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল আহম্মদ বুলবুলের নির্বাচনী কর্মী ছিলেন। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তার সঙ্গে ওই দুইজনের আরো সম্পর্ক বেড়ে যায়। সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যা ঘটনার মূল নায়ক শাকিল আহম্মদ বুলবুল। এ কারণেই তার ওই দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

এদিকে, বর্তমানে শাকিল আহম্মদ বুলবুল পলাতক রয়েছেন। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও বন্ধ পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, বর্তমান স্বতন্ত্র সাংসদ আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মদ বুলবুলের প্রতারণায় সাঁওতালরা নিঃস্ব হয়েছেন। আবুল কালাম আজাদ ও বুলবুল ইতোপূর্বে সাঁওতালদের পক্ষ নিয়ে রংপুর চিনিকলের জমিতে ঘরবাড়ি তুলতে উৎসাহিত করেছিলেন। এখন তারাই সাঁওতালদের বিপক্ষে গিয়ে সাঁওতালদের উপর হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, এই মামলায় সরোওয়ার হোসেন ও আকবর আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরের দিকে তাদের আদালতের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

গত ৬ নভেম্বর উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকার রংপুর চিনিকলের জমি উদ্ধার নিয়ে চিনিকল শ্রমিক ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজনের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় সাঁওতালদের প্রায় আড়াই হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যা একাত্তরকেও হার মানিয়েছে বলেও অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ সভাপতি ফিলিমন বাস্কে জানান, পুলিশের গুলিতে দিনাজপুর সদর হাসপাতালে শ্যামল হেমরম (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হন। তার বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জের ধনগইর উপজেলার গোমস্তাপুর গ্রামে। পরে মঙ্গল মার্ডী (৫০) ও রোমেশ সরেন (৪০) নামে দুই জনের লাশ পাওয়া যায়।

নিহত মঙ্গল মার্ডীর বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দামোদরপুর গ্রামে। আর রোমেশের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সিনটাজুড়ি গ্রামে।

তিনি আরো জানান, পুলিশের ছররা গুলিতে আরো কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে চরন সরেন (৫০), বিমল কিসকু (৪৫) ও দ্বীজেন টুডু (৪৫) সহ ৩ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এদের মধ্যে দ্বীজেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

উপজেলার রামপুরা গ্রামের স্বপন মুরমু জানান, এসব নৃসংশ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে ১৭ নভেম্বর ৬০০ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। তবে স্থানীয় সাঁওতাল নেতারা এই মামলা প্রত্যাখান করেছেন।