মেইন ম্যেনু

সিঙ্গাপুরে জাহাজ শিল্পে মন্দা, কর্ম হারাচ্ছে প্রবাসীরা

20150922_082532

রাশিদুল ইসলাম জুয়েল, সিঙ্গাপুর থেকেঃ সিঙ্গাপুরে জাহাজ নির্মাণ বাণিজ্যে মন্দাভাব চলছে। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলে গড়ে ওঠা খাবার হোটেল রেস্তোরাঁগুলোর ব্যবসাতেও ভাটা পড়েছে। ব্যবসা সামলাতে ব্যাপকহারে কর্মী ছাঁটাই করছে সেসব খাবার দোকান। ইতিমধ্যে জাহাজ শিল্পের ২৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশী ও ভারতীয়।

উদাহরণ স্বরূপ ‘ইন্ডিয়ান মাসালা হাট’ নামে একটি রেস্তোরাঁর কথা উল্লেখ করা যায়। সিঙ্গাপুরের জাহাজ নির্মাণ বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থলে এটি অবস্থিত। মশলাদার সুস্বাদু খাবারের জন্য জাহাজের ভোজন রসিক শ্রমিক, মালিক ও যাত্রীদের কাছে রেস্তোরাঁটি সুপরিচিত। সম্প্রতি এখানে খুব কম লোক খেতে আসে।

রেস্তোরাঁটির পরিচালক কে মুরালিদোস বলেন, অয়েল রিগ জাহাজ নির্মাণের অর্ডার কমে যাওয়ার কারণেই এই অবস্থা। কাজ কমে যাওয়ায় এখানে হাজার হাজার কর্মী চাকরি হারাচ্ছে। কমছে খাবারের ব্যবসাও।

তিনি আরো জানান, এখানকার শ্রমিকদের অধিকাংশই ভারতীয় ও বাংলাদেশী। তাই এখানকার খাবারের দোকানগুলোও গড়ে উঠেছে তাদের কেন্দ্র করেই।

মুরালিদোস বলেন, দুপুরের খাবারের সময় আগে খুব বেশি ভিড় থাকতো, এখন অর্ধেকে নেমে গেছে। গত সপ্তাহে এখানকার বেনোই রোড ফুড কোর্ট পুরো ফাঁকা ছিল। বিকেলে এখানকার ১২টির মধ্যে মাত্র ৪টি হকার স্টল খোলা ছিল।

অথচ গত সেপ্টেম্বরেই কোম্পানিগুলোর অর্ডার নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন মুরালিদোস। অভুক্ত শ্রমিকদের রসনা তৃপ্তি করতে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কাজ আদায়ের চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু এখন কিছু প্রকল্প চালু আছে বলে খুব সামান্য অর্ডার আসে।

বৈশ্বিক এনার্জি গবেষণা ও পরামর্শক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি লিমিটেড জানিয়েছে, ২০১৪ সালের মাঝামাঝির পর থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি প্রস্তাবিত এনার্জি প্রকল্পের কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে ২০১৭ সাল পেরিয়ে যাবে।

কয়েক দশক ধরেই সিঙ্গাপুর অয়েল রিগ কন্সট্রাকশনের বৈশ্বিক কেন্দ্রস্থল ছিল। কিন্তু গত চার বছরের মধ্যে চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতিতে এ ধরনের চুক্তির সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

গত দুই বছরে তেলের বাজারে অব্যাহত দরপতনের ফলে সিঙ্গাপুরের তেল কোম্পানিগুলো প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি বাজার মূল্য হারিয়েছে। যা ২০১৪ সালের জুলাই মাসের আগে পর্যন্ত মূলধনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত এসব কোম্পানি প্রায় ২৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। এছাড়া সুইবার হোল্ডিংস নামে একটি কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে।

অয়েল রিগ নির্মাণ কমে যাওয়ায় সিঙ্গাপুরে অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে জিডিপি ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে যেতে পারে। এছাড়া গত ৫০ বছরের মধ্যে দেশটির তেল, গ্যাস ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পার করছে।

এমন পরিস্থিতিতে বড় আশংকা তৈরি হচ্ছে শ্রমিকদের নিয়ে। গত দুই বছরে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হওয়ায় বাড়ছে বেকারত্ব। এর প্রভাব পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ায়ও। বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে। কারণ এখানে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত শ্রমিকদের সিংহভাগই এ দুই দেশের।

সিঙ্গাপুরে অর্ধশতাধিক শিপইয়ার্ড রয়েছে। এসব শিপইয়ার্ডে অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশী, ভারতীয় ও ফিলিপিনো শ্রমিকই বেশি। জাহাজ নির্মাণ শ্রমিক রয়েছেন ৩০ হাজার বাংলাদেশী। উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটিতে গেছে। সূত্র: দ্য বিজনেস টাইমস,সিঙ্গাপুর।