মেইন ম্যেনু

সুখী দম্পত্তিরা এড়িয়ে চলেন ফেসবুক

couple-fb-main

সামাজিক যোগাযোগ আমাদের সবার জন্য উন্মুক্ত। একদম আমাদের নিজেদের জায়গা। কতরকমের ছবি শেয়ার দিই আমরা, নিজেদের কত সুন্দর মূহুর্ত তুলে ধরি। একটা ভাল নেটওয়ার্কিং ধরে রাখতে এর তুলনা নেই। কিন্তু এখানে সবাই যখন আমাদের একান্ত আপন নয় তখন নিজের ব্যক্তিগত জীবন আপনি কতটা তুলে ধরবেন সে ব্যাপারে আপনাকেই সচেতন হতে হবে। সুখী দম্পত্তিরা কীভাবে ব্যবহার করেন ফেসবুককে? আসুন জেনে নিই গবেষণার ফলাফল-

তারা নিজেদেরকে বেশী সময় দেন
সুখী দম্পত্তিরা নিজেদেরকে অনেক বেশী সময় দেন। নিজেদের জন্য নানান পরিকলনায় তাদের সময় কাটে। এমন নয় যে তারা একসাথে ঘুরে বেড়ান না, ছবি তোলেন না। তারা এই সবই করেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে তারা তাদের সম্পর্কের মাঝে আসতে দেন না। এখনকার তরুণ যুগলেরা দেখা যায় একসাথে পার্কে বসে প্রথমে সেলফি তোলেন তারপর দুইজনে দু’টো স্মার্ট ফোন বের করে ছবি পোস্ট দেন এবং ফেসবুক স্ক্রল করতে থাকেন। একসাথে থেকেও তারা আসলে নিজেদের সময় দেন না।

সমস্যার কথা ফেসবুকে বলার কোন মানে নেই
আপনার সম্পর্কের মাঝে অনেক রকম সমস্যা থাকতে পারে। সেটা সবার মাঝে উন্মুক্ত করে দেওয়া বোকামি। এটা আপনার সঙ্গীর অহমকে আঘাত করতে পারে। এতে আপনাদের সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। সুখী দম্পত্তিরা এই কাজটি কখনো করেন না। তারা তাদের সমস্যাগুলো নিজেরাই মিটিয়ে নিতে সচেষ্ট হন।

সত্যিকারের সুখ আসে জীবন যাপনে, প্রচারে নয়
যেই সময় নিয়ে একটি পোস্ট লেখা হবে বা ছবির এলবাম সাজিয়ে আপলোড দেওয়া হবে সুখী দম্পত্তিরা সেই সময় দেন নিজেদেরকে। তার আএকসাথে বেড়াতে যান, সিনেমা দেখেন। রাতে ডিজিটাল স্ক্রিণে সময় ব্যয় না করে তারা গল্প করেন।

প্রমাণ করার কিছু নেই
আপনি যে ভাল আছেন তা কি প্রমাণ করার কিছু আছে আসলে? কি আসে যায় অন্যেরা কি জানলো তাতে? সুখী দম্পত্তিরা অন্যদের ঈর্ষন্বিত করা, প্রশংসা কুড়ানো এই কাজগুলো থেকে বিরত থাকেন। কারণ পোস্ট দিয়ে নিজের প্রেমের গল্প বলার পেছনে যখন আপনার উদ্দেশ্য থাকে অপরের মনোযোগ পাওয়া তখন সেই মনোযোগ কিঞ্চিত কম পাওয়া গেলেই আমাদের মন খারাপ হয়, ঝগড়া হয়। মনে করে দেখুন তো, আপনার প্রফাইল ছবিতে লাইক না দেওয়ার জন্য কতবার ঝগড়া হয়েছে আপনাদের মাঝে?

সবচেয়ে জরুরি কথা
গবেষণায় দেখা গেছে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন না তারা তুলনামূলক বেশী সুখী হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের জীবনে যেন মাদকের আরেক নাম। আমরা খেয়ালও করি না কতটা সময় আমরা পার করে দিচ্ছি শুধু স্মার্ট ফোনের পেছনে। না সময় দিই আমাদের সঙ্গীকে, না সময় দিই পরিবারকে আর না করি নিজের জন্য কোনকিছু। তাই নিজেদের মধ্য থেকে ফেসবুক নামক বিষাক্ত জিনিসটি সরিয়ে রাখাই নিরাপদ।