মেইন ম্যেনু

সুপারহিরো, কোরিয়া আর সালমান মিলে হল ‘কাবিল’

1477538841

‘কাবিল’ কি কোরিয়ান থ্রিলারের রিমেক, নাকি সুপারহিরো সিরিজ থেকে অনুপ্রাণিত? সলমনের মুক্তি না পাওয়া ছবির প্লটের সঙ্গেও বিস্তর মিল! ট্রেলারেই ‘মহাজোট’ ফাঁস!

একে তো নির্ধারিত দিনের আগেই ছবির ট্রেলার লিক হয়ে যাওয়ায় প্রযোজক রাকেশ রোশন ‘শক্‌ড’! তার উপর ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ছবির নায়ক হৃতিক রোশন ট্রেলার টুইট করার পর থেকেই অনেকের চোখ কপালে! ট্রেলার দেখার পর থেকেই ‘কাবিল’ নিয়ে চর্চা শুরু— এ তো কয়েকটা ছবির মহাজোট! যেটা বলিউডের নতুন ট্রেন্ড। যেখানে বলা হয়, ‘অনুপ্রেরণা’ই সব। ‘সামান্য’ মিল তো থাকতেই পারে, পুরোটা তো টুকিনি!

ট্রেলারেই মালুম পড়ছে, হৃতিক দৃষ্টিহীনের চরিত্রে। এবং লোকটা বদলা নিতে চায়। ট্রেলারও বেশ ‘স্পাইন চিলিং’। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, ‘কাবিল’ আসলে হিট কোরিয়ান ছবি ‘ব্রোকেন’ এবং ‘মার্ভেলে’র সুপারহিরো সিরিজ ‘ডেয়ারডেভিলে’র খিচুড়ি। শুধু তাই নয়, তামিল ছবি ‘তাণ্ডবমে’র সঙ্গেও মিল রয়েছে ‘কাবিলে’র। এরপর শোনা যাচ্ছে, নব্বইয়ের দশকের মুক্তি না পাওয়া একটি ছবি ‘বুলন্দে’র সঙ্গে মিলের খবরও। প্রশ্ন, এত কিছু মেলালেন কী করে সঞ্জয়?

এখান থেকে খানিকটা, আর ওখান থেকে খানিকটা নিয়ে এর আগেও ছবি করেছেন পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত। তাঁর আগের ছবি ‘জজবা’রও দক্ষিণ কোরিয়ার ছবি ‘সেভেন ডেজে’র সঙ্গে মিল পাওয়া গিয়েছিল। সঞ্জয়ের পরিচালিত আরও একটি ছবি ‘জিন্দা’ও ছিল আরেক কোরিয়ান ছবি ‘ওল্ডবয়ে’র রিমেক। এবং তাঁর প্রায় সব ছবিই কোনও না কোনও ছবির রিমেক, কিংবা সেগুলো ‘অনুপ্রাণিত’।

কোরিয়ান ছবি ‘ব্রোকেনে’র ট্যাগলাইন ‘গ্রিফ ইন হিজ হার্ট, ভেনজেন্স অন হিজ মাইন্ড’। ‘কাবিল’ বলছে, ‘দ্য মাইন্ড সিজ অল’। ২০১৪ সালে তৈরি ‘ব্রোকেনে’র গল্পে নায়কের স্ত্রী মারা যায়। ১৫ বছরের মেয়ে তার দেখভালে। মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। বদলা নেয় বাবা। ‘কাবিলে’র ট্রেলার দেখে মনে হচ্ছে এখানে নায়কের স্ত্রী ধর্ষিত। ‘ব্রোকেনে’র মেয়েহারা বাবার জায়গায় এখানে একজন স্ত্রী হারানো স্বামী। এটুকু কী করে ‘টোকা’ হয়,
তাই না?

ডেয়ারডেভিলও কাছাকাছি টেলিভিশন সিরিজ ‘ডেয়ারডেভিলে’র দিকেও চোখ রাখা যাক। ম্যাট মার্ডকের চরিত্রটা ‘মার্ভেলে’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুপারহিরো চরিত্র। ম্যাট একজন স্ট্রাগলিং আইনজীবী, যে ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় চোখ হারায়। কিন্তু ম্যাটের চোখ গেলেও বাকি ইন্দ্রিয়গুলো ততোধিক সজাগ। ‘কাবিলে’র ট্রেলার দেখে আন্দাজ করা যাচ্ছে, খানিকটা ম্যাটের মতোই হৃতিকের চরিত্রটার ক্ষমতা।

সালমানের ‘বুলন্দ’ তো প্রায় মিলে যাচ্ছে
‘কাবিল’ সম্পর্কে বলা হচ্ছে, নব্বইয়ের দশকের মুক্তি না পাওয়া ছবি ‘বুলন্দ’ থেকে প্লট টোকা হয়েছে। ওই ছবিতে নায়কের ভূমিকায় ছিলেন সলমন খান। তাঁর তত্কালীন গার্লফ্রেন্ড সোমি আলি ছিলেন নায়িকার ভূমিকায়। সে ছবির গল্পেও নায়িকাকে খুন করা হয়। নায়ক বদলা নিতে ছোটে। এবং অবশ্যই নায়ক অন্ধ! ‘বুলন্দে’ আবার ড্যানি ডেনজোংপাও ছিলেন। এই একমাত্র বিষয়, যেখানে বলা যাবে না মিল নেই! এত কাছাকাছি প্লট কীভাবে ‘অনুপ্রেরণা’ হতে পারে, বোঝা মুশকিল।

আশ্চর্য জোট হৃতিক রোশন আর সঞ্জয় গুপ্তের ‘জোট’টাই খুব আশ্চর্যজনক! দু’জনের আলাদা ফিল্ম ব্যক্তিত্ব। দু’জনের ভিন্ন সিনেম্যাটিক সমঝ। ‘কাবিলে’ কীভাবে তাঁরা জুটি বাঁধলেন, তা নিয়ে অনেকেই অবাক হয়েছেন তো বটেই। তার উপর ইয়ামি গৌতমকে নেওয়াতেও অনেকে নাক সিঁটকেছেন। কারণ, এর আগে ইয়ামি নাকি হয় মারা গিয়েছেন (সনম রে, বদলাপুর) নয়তো কোমায় চলে গিয়েছেন (অ্যাকশন জ্যাকসন)!

‘কহানি টু’ও কি তবে…
ট্রেলার লঞ্চ হওয়া আরেকটি ছবি নিয়েও কিন্তু কানাঘুষো চলছে। সুজয় ঘোষের ‘কহানি টু’। এখনও ঠিক হলফ করে বলা না গেলেও, অনেকের মনে হচ্ছে এ-ও হয়তো দেখা যাবে ‘কাবিলে’র মতোই জগাখিচুড়ি! কারণ অবশ্য রয়েছে এই সন্দেহের। সুজয়ের ‘কহানি’ আর হলিউড ছবি ‘টেকিং লাইভসে’র এত মিল! বিশেষত ক্লাইম্যাক্সে। তবে প্লটলাইন আলাদা ছিল দুই ছবির। সুজয় অবশ্য বলেছিলেন, ‘‘ওই ছবির নামও শুনিনি, দেখিওনি।’’

টোকা হৃতিকের আরও ছবি
হৃতিককেও বিতর্ক থেকে বাদ রাখা যাচ্ছে কই! এর আগে সঞ্জয় লীলা বনশালীর ‘গুজারিশ’ এবং সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘ব্যাং ব্যাং’ নিয়েও তো কম জলঘোলা হয়নি। দু’টো ছবিই ‘অনুপ্রাণিত’ বলে দাবি করা হয়েছিল, অথচ মিল অনেক জায়গাতেই! ‘গুজারিশ’ ছিল হাভিয়ের বার্দেম অভিনীত স্প্যানিশ ছবি ‘দ্য সি ইনসাইড’ থেকে অনুপ্রাণিত। আর ‘ব্যাং ব্যাং’ টম ক্রুজের ‘নাইট অ্যান্ড ডে’র গোদা টুকলি ছাড়া আর কিছু নয়! তবে হৃতিক কি এসব জেনে ছবিগুলো করেছিলেন? সেটা অবশ্য জানার উপায় নেই!-এবেলা