মেইন ম্যেনু

সূর্যের আলো গায়ে না লাগলে ভয়ংকর রোগ!

নাগরিক জীবনে ব্যস্ততার কারণে অনেকের শরীরে সূর্যের আলো লাগে না। এতে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন মহামূল্যবান ভিটামিন ডি থেকে। তার ফলে বাড়ছে নানা রোগের আক্রমণ।

ভিটামিন ডি। অন্য নাম সানশাইন ভিটামিন। খাবারের পাশাপাশি যার অন্যতম উৎস সূর্যের আলো।

উপকারিতা বহুমুখী। রক্তে মিশে থাকা ভিটামিন ডি হাড় ও কোষের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ত্বকের জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, ভিটামিন ডির ঘাটতিতে শরীরে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে-

অবসাদ: স্ট্রেসফুল লাইফে এমনিতেই অবসাদের শেষ নেই। রোদের অভাব সেই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। ব্রিটিশ জার্নাল অফ সাইকিয়াট্রির সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডির পরিমাণ কম, তাদের অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অন্যদের ডাবল। একতিরিশ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌছেছেন।
মস্তিস্কের হিপ্পোক্যাম্পাসসহ কিছু অংশ ভিটামিন ডির সাহায্যে মন চনমনে রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে ভিটামিন ডি কম, তাদের মধ্যে স্ফূর্তিও তুলনামূলক ভাবে কম।

ক্যান্সার: গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি বেশি, তারা ক্যান্সারের সঙ্গে বেশি ফাইট করতে পারেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভিটামিন ডি ১০ শতাংশ বাড়লে ক্যান্সারে সারভাইভালের সম্ভাবনা ৪ শতাংশ বেড়ে যায়।

প্রস্টেট ক্যান্সার: ক্লিনিক্যাল ক্যান্সার রিসার্চের জার্নালে উল্লেখিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভিটামিন ডি ঘাটতি থাকলে প্রস্টেট ক্যান্সারের বিপদ ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়।

ডিমেনশিয়া ও অ্যালজাইমার্স: প্রাপ্ত বয়স্করা যদি বেশি মাত্রায় ভিটামিন ডি ঘাটতিতে ভোগেন, তাদের ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার প্রবণতা ৫৩ গুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে রয়েছে অ্যালজাইমার্সের বিপদ।

সোরিয়াসিস আর্থারাইটিস: বাতের যন্ত্রণার পেছনেও সেই ভিটামিন ডি ঘাটতি। গবেষণায় দেখা গেছে, সোরিয়াটিক আর্থারাইটিসে যাঁরা ভোগেন, তাদের ৬২ শতাংশের শরীরেই প্রয়োজনীয় পরিমাণে ভিটামিন ডি নেই।

বেড়ে যায় হার্টের রোগ: যাদের শরীরে ভিটামিন ডি পরিমাণে কম, তাদের করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ৩২ শতাংশ বেশি।

নিউমোনিয়া সংক্রমণ: ভিটামিন ডি ঘাটতিতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা আড়াই গুণ বেশি

স্কিতজোফ্রেনিয়ার প্রবণতা বেশি: সাইকিয়াট্রিক হেলথের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি গুরুত্ব অসীম। রক্তে ভিটামিন ডি কম থাকলে স্কিতজোফ্রেনিয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

স্নায়ুর সমস্যা: পার্কিনসন্স, ক্লোরোসিসের মতো রোগে যারা আক্রান্ত, ভিটামিন ডি ঘাটতি তাদের শরীরে স্নায়ুর সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

অপরিণত মৃত্যু: কারণ, রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়া সহজেই বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। তাই এর ফল অসময়ে মৃত্যু।