মেইন ম্যেনু

সূর্য কি সত্যই হেলে রয়েছে কয়েক ডিগ্রি? কী বলছে নতুন আবিষ্কার?

এবছরের জানুয়ারিতেই সৌরমণ্ডলের নবম গ্রহের উপস্থিতি নিয়ে হই-চই পড়ে যায় সারা বিশ্বে। সেই সংক্রান্ত গবেষণার সূত্র ধরেই এবার এক নতুন সম্ভাবনার কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা।

এখন যাঁরা মধ্যবয়সী, তাঁরাও ছোটবেলায় পাঠ্যপুস্তকে পড়ে এসেছেন সৌরমণ্ডলের ন’টি গ্রহের কথা। ১৯৩০ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল তৎকালীন ‘নবম’ গ্রহ প্লুটো। কিন্তু ২০০৬ সালে জানা যায় যে প্লুটো আর গ্রহ নয়, তা বামনগ্রহে রূপান্তরিত হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট আয়তন ও ভর থাকলে তবেই তা গ্রহ বলে বিবেচিত হয়। তাই গত ১০ বছর ধরে জানা ছিল, আমাদের সৌরজগতে আটটি গ্রহ রয়েছে। কিন্তু এবছরের গোড়ার দিকের একটি নতুন আবিষ্কারে জানা গিয়েছে, আটটি নয়, মোট ন’টি গ্রহ রয়েছে সৌরজগতে এবং এই নবম গ্রহটি আয়তনে ও ভরের দিক থেকে বিশাল।

ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-র কনস্তানতিন ব্যাতিজিন ও মাইক ব্রাউনের এই আবিষ্কারের পর থেকেই ওই নবম গ্রহ এবং সৌরমণ্ডলে তার প্রভাব সংক্রান্ত গবেষণা শুরু হয়। সেই গবেষণার সূত্র ধরেই বলা হচ্ছে, শুধুমাত্র সৌরমণ্ডলের গ্রহগুলিই নয়, সূর্য নিজেই হেলে রয়েছে কয়েক ডিগ্রি। জানা গিয়েছে, পৃথিবী-সহ বাকি

সব গ্রহগুলি সূর্যের পরিপ্রেক্ষিতে রয়েছে একটি জ্যামিতিক সমতলে। সেই সমতলটি আবার দেখা যায় বেঁকে রয়েছে ৬ ডিগ্রিতে, যা দেখে মনে হয় সূর্য নিজেই যেন হেলে রয়েছে ৬ ডিগ্রি। ঠিক কী কারণে এই ‘টিল্ট’ তার তেমন কোনও ব্যাখ্যা এতদিন পর্যন্ত পাননি বিজ্ঞানীরা।

নবম গ্রহের সহ-আবিষ্কর্তা মাইক ব্রাউনের বক্তব্য, এটি সৌরমণ্ডলের একটি বিশাল বড় রহস্য এবং ব্রাউন ও ব্যাতিগিনের মতে, নতুন আবিষ্কৃত নবম গ্রহের একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে এর পিছনে। এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে, এই গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় ১০ গুণ বড় এবং এর কক্ষপথ নেপচুনের কক্ষপথের তুলনায় আরও ২০ গুণ বৃহৎ। তাই বাকি গ্রহের কক্ষপথগুলি যে সমতলে রয়েছে তার চেয়ে ৩০ ডিগ্রি হেলে রয়েছে এই নবম গ্রহটি।

এর দরুণ, কুইপার বেল্টে যে সমস্ত মহাজাগতিক বস্তুগুলি রয়েছে তার উপর এই গ্রহের মহাকর্ষের প্রভাব থাকাটা স্বাভাবিক। সেই প্রভাবগুলি লক্ষ্য করেই মূলত ব্যাতিজিন ও ব্রাউন নবম গ্রহের উপস্থিতির বিষয়টি আঁচ করেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও গ্রহের অ্যাঙ্গুলার মোমেন্টাম সেই গ্রহের ভর ও সূর্য থেকে তার দূরত্বের গুণফলের সমান। এই মোমেন্টামের উপরই নির্ভর করে সে এই সমগ্র সৌরমণ্ডলের উপর কী প্রভাব ফেলবে। যেহেতু নবম গ্রহটি ছাড়া বাকি সব গ্রহগুলি একই কোণে হেলে রয়েছে তাই এই গ্রহ বাদে বাকি সৌরমণ্ডলের ঘূর্ণন মসৃণভাবে ঘটে চলেছে। কিন্তু এই নবম গ্রহের ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্য রকম হল কেন?

ব্যাতিজিন ও ব্রাউনের ধারণা, সম্ভবত এই গ্রহের জন্মের প্রাথমিক পর্যায়ে, আমাদের সৌরমণ্ডলের ঠিক বাইরে অবস্থিত অন্য মহাজাগতিক বস্তুর মহাকর্ষ বল গ্রহটির উপর প্রভাব ফেলেছে। সূর্য থেকে অনেকটাই দূরে থাকার ফলেই সম্ভবত তা ঘটে এবং তারই প্রভাবে অন্যান্য গ্রহের কক্ষপথগুলি সূর্যের পরিপ্রেক্ষিতে জ্যামিতিক সমতলে রয়েছে তা থেকে ৩০ ডিগ্রি বিচ্যুত হয় নবম গ্রহের কক্ষপথ। আবার যেহেতু নবম গ্রহটি সৌরমণ্ডলেরই অন্তর্গত তাই তার এই বিচ্যুতির পরিবর্ত প্রভাব পড়ে সৌরমণ্ডলের মূল জ্যামিতিক সমতলে। আর সেই কারণেই সম্ভবত সূর্য এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য গ্রহের কক্ষপথ ৬ ডিগ্রি হেলে রয়েছে। এই সংক্রান্ত দ্বিতীয় গবেষণাপত্রটি আর কিছুদিনের মধ্যেই প্রকাশিত হতে চলেছে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে। সেখানেই হয়তো রহস্য উন্মোচন ঘটবে। -এবেলা।