মেইন ম্যেনু

সেলফি তুলেই যে অবস্থার শিকার হলো এই যুবতী, জানলে সেলফি তুলতেই ভয় পাবেন

সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এখনকার জনপ্রিয় ট্রেন্ড। মেক্সিকো নিবাসী নোয়েলা মার্টিনও তেমনটাই করেছিলেন। কিন্তু তার পরিণামে যে ফল এই যুবতীকে ভোগ করতে হল, তা জানলে শিউরে উঠতে হয়।
ঘটনার সূত্রপাত বছরখানেক আগে। নোয়েলার বয়স তখন ১৭। নিজের একটি অতি সাধারণ সেলফি তুলে তিনি পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। কালো পোশাকে দিব্যি লাগছিল নোয়েলাকে। সেলফিটি বেশ পছন্দও করেছিলেন নোয়েলার বন্ধুবান্ধবরা। কিন্তু নোয়েলা তখন ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, তাঁর এই ছবি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সাইবার অপরাধীদেরও।

সাইবার ক্রিমিনালরা নোয়েলার এই নিরীহ ছবিটিকে নিজেদের কার্যসিদ্ধিতে ব্যবহার করা শুরু করে। নোয়েলার ছবিটি মর্ফ করা হয়, অর্থাৎ নোয়েলার মাথার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় কোনও এক নগ্ন পর্নস্টারের ছবির নিম্নাংশ। মর্ফিং-এর পরে যে ছবিটি তৈরি হয়, বলা বাহুল্য, তা মোটেই শালীন ছিল না।

এরপর বিভিন্ন পর্ন সাইটে ছড়িয়ে দেওয়া শুরু হয় নোয়েলার সেই বিকৃত ছবি। ‘প্যারাসাইট পর্ন’ নামের একটি কৌশলে বিভিন্ন সাইটে ছড়ানো হতে থাকে ছবিটি। ইউজারদের অশালীন মন্তব্যে ভরে উঠতে থাকে ছবির নিম্নবর্তী কমেন্ট অংশটি। নোয়েলার অজান্তেই সাইবার দুনিয়ায় যেন তাঁর লাঞ্ছনা শুরু হয়ে যায়।

ইন্টারনেটে তাঁর ছবি নিয়ে যে এই সমস্ত ঘটে চলেছে, তা জানতেনই না নোয়েলা। দিন কয়েক আগে কয়েকজন বন্ধুর মুখে তাঁর ওই ছবি সম্পর্কিত কিছু কটূক্তি শুনে নোয়েলার সন্দেহ হয়। তারপর গুগল ইমেজ সার্চের সাহায্যে তিনি জানতে পারেন, কী সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে তাঁর। এখন আইনি সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে নিজের ছবি মুছে দেওয়ার জন্য লড়াই চালাচ্ছেন এই অষ্টাদশী। কিন্তু প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে পরিচালিত এত বেশি সংখ্যক ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে গিয়েছে নোয়েলার বিকৃত ছবিটি যে ব্যাপারটাকে নিয়ন্ত্রণে আনা রীতিমতো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলফি বা যে কোনও ছবি পোস্ট করার সময়ে সতর্ক থাকতে হবে। নিজের অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংগসও খুব সুচিন্তিতভাবে সেট করা দরকার। নাহলে নোয়েলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে যে কারো সঙ্গে।