মেইন ম্যেনু

স্বামী তালাক দিলেই নতুন এক পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর যৌনমিলন করতে হয় যেখানে!

rape-romance

তালাক-তালাক-তালাক। তিন বার একই শব্দ উচ্চারণ করলে বিবাহবিচ্ছেদ করে দিতে পারেন পুরুষ। নারীর কোনও অধিকার নেই এর বিরোধিতা করার। এই প্রথার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন মুসলমান মহিলাদের সংগঠন। আর তার ভিত্তিতেই কেন্দ্রকে তালাক-প্রথা রদে পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কিন্তু এক নজরে তালাকের নিয়ম জানলে শিউরে উঠতে হয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মুসলমান রমণীদের উপরে যৌন নির্যাতনও। সবটাই যে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে হয় এমনটাও নয়, অনেক ক্ষেত্রেই এলাকা অনুসারে নিয়ম বদল হয়ে থাকে।

১। রাগের মাথায় কিংবা নেশার ঘোরে স্বামী স্ত্রীকে তিন বার ‘তালাক’ বলে দিলে সেই নারী বিবাহবিচ্ছিন্না হয়ে যান।

২। এক সঙ্গে না বলে বিভিন্ন সময়ে রাগে বা রসিকতা করেও স্বামী তিন বার ‘তালাক’ বললে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।

৩। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এসএমএস বা চিঠিতে তিন বার ‘তালাক’ লিখে স্ত্রীকে পাঠিয়ে তালাক দেওয়ার নিদর্শনও রয়েছে ভারতে।

৪। কোনও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরে তাঁকে তিনবার রজস্বলা হতে হয় স্বামীর ঘরে থেকে। তার পরেই বিবাহবিচ্ছেদ সম্ভব।

৫। তালাক দেওয়া স্বামী পুনরায় ওই রমণীকে গ্রহণ করতে পারেন, যদি ওই নারী অন্য কোনও পুরুষকে বিবাহ করে নতুন স্বামীর সঙ্গে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার পরে সেখানে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসেন। সেক্ষেত্রেও অস্থায়ী স্বামীর দ্বারা গর্ভবতী হলে পুরনো স্বামীর কাছে ফিরে আসা সম্ভব নয়। তবে দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিতেই পারেন।

৬। রজস্বলা অবস্থাতেও স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন স্বামী। এমনকী সন্তান ধারনের পরেও দ‌েওয়া যায় তালাক।

৭। তালাক দেওয়ার পরে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। সবটাই স্বামীর ইচ্ছাধীন।

৮। পাকিস্তান বা বাংলাদেশে তিন-তালাক প্রথা উঠে গিয়েছে। ভারতীয় সুন্নিদের কিছু অংশের মধ্যে তিন-তালাকের প্রচলন রয়েছে। অন্যদিকে, শিয়া সম্প্রদায় মনে করে, তিন-তালাক অজ্ঞ লোকের প্রথা। তাদের মতে, হজরত মহম্মদ এর ঘোরতর বিরোধী ছিলেন।

৯। সুন্নিদের চারটি মজহব— হানাফি, মালিকি, শাফায়ি ও হানবালি। প্রথম তিন শাখা তিন-তালাকে বিশ্বাসী। তবে হানবালিরা একে অবৈধ মনে করেন।

১০। বিশ্বের বহু মুসলমান-প্রধান দেশেই তালাক প্রথা বদলে নতুন আইন হয়েছে। তুরস্ক, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, ইরাক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ তিন-তালাক নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু ভারতে এখনও সেই প্রথা প্রযোজ্য।

এখন সর্বত্রই প্রশ্ন উঠছে কেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী মহিলাদের এই যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হবে? স্বামী এক বার তালাক দিয়ে পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে কেন নতুন করে এক পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে? এ কেমন শাস্তি? কেন দেশের বাকি মহিলাদের মতো তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদের পরে খোরপোশের সুবিধা পাবেন না?



(পরের সংবাদ) »