মেইন ম্যেনু

হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে পরিবার নিয়ে গাছের মগডালে আশ্রয়, রাত্রিবাস

শহরের কাছে কয়েকটি গ্রামে বেশ কিছুদিন ধরেই তাণ্ডব চালাচ্ছে একদল হাতি। ভেঙে দিচ্ছে কাঁচা ঘর-বাড়ি। তছনছ করে দিচ্ছে ক্ষেতের ফসল। রাজ্যে হাতির হামলায় প্রাণও দিতে হয় অনেকের। তাই নিরুপায় হয়ে হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে গত কয়েকদিন ধরে গাছের মগডালে আশ্রয় নিয়েছে চারটি পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচির একটি গ্রামে। শুধু তাই নয়, হাতির অবরোধে যানজট দেখা দিচ্ছে রাঁচি-জামশেদপুর জাতীয় সড়কে।

রাঁচি থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে বুন্দুর কাছে লাহারাটোলা গ্রাম। এই গ্রামেরই কয়েকটি পরিবার এখন রাত্রিবাস করছে গাছের উপর। দিনের বেলায় চাষবাস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা। ছোটোরা ইটের টুকরো জোগাড় করে রাখে হাতি তাড়ানোর জন্য। এই গ্রামের ১৫টি পরিবারের প্রত্যেকেই জীবিকার জন্য চাষ-আবাদের উপর নির্ভরশীল। গ্রামের ন্যূনতম পরিকাঠামো বলতে কিছুই প্রায় নেই। তাই কৃষিকাজ ছাড়া আর কোন জীবিকা অর্জনের পথও নেই তাদের কাছে।

ঝাড়খণ্ডের বন দফতরের কর্মকর্তা সুখদেও সিং জানিয়েছেন, “আমরা খুব শিগগিরই গাছের উপরে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোকে উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেখানে সিনিয়র কর্মকর্তাদের দলও পাঠানো হচ্ছে।” স্বল্প ও দীর্ঘকালীন মেয়াদের ভিত্তিতে হাতির হানা ঠেকাতে বেশ কিছু উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঝাড়খণ্ডে হাতির উৎপাত নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ২০০০ সালের নভেম্বরে আলাদা রাজ্য ঘোষিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজারেরও বেশি মানুষ হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে। হাতির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে এই রাজ্যে। ২০০৭ সালে যেখানে হাতির সংখ্যা ছিল ৬২৪, সেখানে ২০১২ সালে হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৬৮৮তে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতির চারণভূমির বেশ কিছুটা অংশ উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে আশপাশের গ্রামাঞ্চলগুলিতে হামলা চালাচ্ছে হাতির দল। -এনাদুইন্ডিয়া.কম।