মেইন ম্যেনু

হাত নেই, পা দিয়ে লিখেই জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে জসীম

হাত নেই, তাই বলে তো আর থেমে থাকতে পারে না জীবন। বিকল্প হিসেবে তাই পা দিয়ে লিখেই এবারের জেএসসি পরীক্ষায় দিচ্ছেন ফরিদপুরের নগরকান্দার দরিদ্র পরিবারের ছেলে জসীম। আজ জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন তিনি।

(মঙ্গলবার) থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে চলতি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা। জসীম নগরকান্দা উপজেলার মনোহরপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে তালমা নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের হানিফ মাতুব্বর ও তছিরন বেগম দম্পত্তির বড় ছেলে জসীম মাতুব্বর। তারা চার ভাই এক বোন। ছোট ভাই রশিদ সপ্তম শ্রেণী, লিমন ৩য় শেণী, আবুল খায়ের কওমী মাদ্রাসায় ও বড় বোন পঞ্চম শ্রেণী পাশ করে স্থানীয় মহিলা মাদ্রাসায় পড়া শোনা করছে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি বলতে জসীমদের আছে শুধু বাড়িটি। সংসার চালাতে জসীমের বাবা হানিফ পরের জমিতে দিন মজুরের কাজ করেন। তবে দারিদ্রতার কাছে হেরে যেতে রাজি নয় তিনি। পড়াশোনা শিখে ভবিষ্যতে জীবনকে জয় করতে চান জসীম।

জসীমের স্বপ্ন বড় হয়ে শিক্ষক হবেন। এলাকার ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে তুলতে সহায়তা করবেন। ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের জীবিকা অর্জন করতে পারবেন। কেউ তাদের ঠকাতে পারবেন না।

জসীমের বাবা হানিফ মাতুব্বর বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমার একটাই আশা জসীম লেখাপড়া করে বড় হলে সরকার যেন একটা চাকরীর ব্যবস্থা করেন।

তালমা নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, জসীম লেখা পড়ায় অত্যন্ত ভালো। ওর লেখাপড়ার প্রতি আমাদের বিশেষ নজর রাখছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল আজিজ বলেন, জসীমের লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে ইতি মধ্যে জমীমের বাবা ও মায়ের নামে কিছু জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। ওর স্কুলে আসা যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটি ভ্যান গাড়ি অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল আজিজ মঙ্গলবার জসীমের এই পা দিয়ে পরীক্ষা দেয়া দেখেন।