মেইন ম্যেনু

হিলারির ‘ই-মেইল’, ট্রাম্পের ‘ফিমেল’

trump-hilary20161108113511

পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধংদেহী বলেও দুর্নাম রয়েছে দেশটির। সেই দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ঘণ্টা কয়েক।

কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। হিলারি ক্লিনটন, না ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেই নির্বাচিত হন না কেন, ইতিহাসের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হলে একদিকে তিনি যেমন হবেন দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট, অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিতে হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে নেমে শুরু থেকেই হিলারি ও ট্রাম্প একে অপরকে ঘায়েল করে গেছেন সাধ্যমতো।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নামার পর থেকে ট্রাম্পকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে একের পর নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ। রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অন্তত ১০ জন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

অন্যদিকে শুরু থেকেই ই-মেইল কেলেঙ্কারি নিয়ে বিপর্যস্ত হয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। প্রচারণায় নেমে হিলারির বিরুদ্ধে এ বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে ট্রাম্প শিবির। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সরকারি কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে চলে এ দশা।

সর্বশেষ নির্বাচনের এক সপ্তাহ বাকি থাকতে এফবিআই হিলালির ই-মেইল বিষয়ে নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পালে নতুন হাওয়া লাগে। এরপর জনমত জরিপগুলোতে হিলারির অবনমনের চিত্রও উঠে আসে। অবশ্য তদন্ত শেষে এতে হিলারির অপরাধের কোনো প্রমাণ পায়নি এফবিআই।

হিলারি ও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এ দুজনই যুক্তরাষ্ট্রবাসীকে দেখিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই দেশের স্বপ্ন। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে তারা যেমন বেছে নিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন পন্থা, তেমনি অপরজন কীভাবে এ পদের জন্য অযোগ্য, সেটি প্রমাণেও মরিয়া ছিলেন তারা।

তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবর বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে হিলারির সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তার ই-মেইল কেলেঙ্কারি। অন্যদিকে ট্রাম্পের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নারী কেলেঙ্কারির বিষয়গুলো। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির যে অভিযোগ রয়েছে, সেসব যুক্তরাষ্ট্রবাসীর পছন্দ নির্বাচনে বড় নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

এছাড়া প্রচারণার শুরুর দিক থেকে মুসলিমদের নিয়ে শরণার্থীদের বিষয়ে ট্রাম্প যেসব বক্তব্য রেখেছেন সেগুলোও বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি রাশিয়াকে হিলারির ই-মেইল হ্যাকের আহ্বান জানিয়েও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প।

শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। নির্বাচনের আগে শেষ র‌্যালিতে নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভেনিয়া এবং মিশিগানে জনতাকে নিজের যোগ্যতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন হিলারি ও ট্রাম্প দুজনই। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন হিলারি।

শেষ দিন হিলারির পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ভয়কে প্রত্যাখ্যান করে আশাকে বেছে নিতে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে হিলারিই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী।

নির্বাচনে হারলে ফল মেনে নেবেন কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে কিছু না বললেও হিলারি বলছেন, তিনি জিতলে ট্রাম্পের কাছ থেকে গঠনমূলক একটি ভূমিকা প্রত্যাশা করবেন।