মেইন ম্যেনু

১০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে : জাতিসংঘ

cp-net__0

অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহে পালিয়ে এসেছে। মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিধন, নির্যাতন, নারী ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করার পর থেকে গত কয়েক সপ্তাহে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে জাতিসংঘ। ব্যাংককে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু ও শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র ভিভিয়ান তান এ তথ্য দিয়ে বলেছেন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে ১০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাচ্ছে এবং বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

এদিকে চীন মিয়ানমারকে জাতিগত অস্থিরতা ঠেকাতে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বুধবার। দেশটিতে মিয়ানমারের সফররত একটি প্রতিনিধিদলকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি এধরনের প্রতিশ্রুতি দেন। এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন থিন মিও উইন। চীন বলেছে, দেশটি এ সমস্যা নিরসনে মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করতে চায়। চীনে গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৩ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়ার পর এধরনের ঘোষণা দিল দেশটি। এছাড়া গত বছর চীন সীমান্তে গোলযোগে অন্তত ৫ জন চীনা নাগরিক নিহত হবার ঘটনা ঘটে। মিয়ানমার সীমান্তে সীমান্তে সহিংসতা ঠেকাতে চীন, মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করতে চায়। রোহিঙ্গা রাজ্যে যে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করছে মিয়ানমার তার পরিবর্তে চীন আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধানের কথা বলেছে।

মিয়ানমার অভিযোগ করে আসছে সন্ত্রাসীরা দেশটির পুলিশ বাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এরপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাখাইন রাজ্যে অন্তত ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে দেশটি সাহায্য করার কথা বলছে।

এছাড়া চীনের পররাষ্ট্র দফতর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেইজিং মিয়ানমারে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উ্েদ্বগ প্রকাশ করছে। দুটি দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতায় উভয় দেশের সীমান্তে শাস্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয় রোহিঙ্গা ইস্যুটি সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয় আরো বলেন, তার দেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। বরং গঠমূলক ভূমিকা রাখতে চায় যাতে দেশটির সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতা থিন মিও উইন বলেন, তার দেশ এব্যাপারে চীনের সহযোগিতা কামনা করে। চীন মিয়ামারে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাও উপলব্ধি করছে তার দেশ।

এদিকে ব্যাংককে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু ও শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র ভিভিয়ান তান জানান, তারা বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার আহবান জানিয়ে তাদেরকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কার্যকর মানবিক সহায়তা দিতে তৈরি আছি। কারণ তাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন।

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বা নাফ নদী দিয়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসতে চাইলেও তাদের পুশব্যাক করছে বিজিবি। এরপরও সীমান্তের অন্যান্য স্থান দিয়ে বেশ কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ভূউপগ্রহের ছবি পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে রাখাইন স্টেটে রোহিঙ্গাদের শতশত বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শতাধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। অসংখ্য রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ সহ শিশুদেরও হত্যা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কোনো সহায়তা প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়াকে ওই অঞ্চলে যেতে দিচ্ছে না মিয়ানমার সরকার। ব্যাংকক পোস্ট