মেইন ম্যেনু

১৩ নভেম্বর কুড়িগ্রামের হাতিয়া গণহত্যা দিবস

unnamed-4

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ১৩ নভেম্বর, কুড়িগ্রামের হাতিয়া গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিকেলে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর গনহত্যায় প্রান হারায় ৬৯৭ জন নিরীহ গ্রামবাসী। স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও তাদের নাম শহীদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বৃহত্তর রংপৃরের সবচেয়ে বড় গনহত্যা সংঘঠিত হয় হাতিয়ায়। হত্যাকান্ডের শিকার পরিবারগুলো এখনও পায়নি স্বজন হত্যার বিচার।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া অনন্তপুর গ্রামে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের মিথ্যা তথ্যে পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা হাতিয়া ইউনিয়নে স্বশস্ত্র অবস্থান নেয়। ভোরের আলো না ফুটতেই তারা একে একে বাগুয়া অনন্তপুর, রামখানা, মন্ডলেরহাট, নয়াদাড়া, নীলকণ্ঠ ও দাগারকুঠি গ্রামের নারী-পুরুষকে ধরে এনে দাগারকুটিতে সারিবদ্ধ করে নির্বিচারে গুলি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে বেয়ানট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহগুলোকে আগুনে ফেলে দেয়। সেখানকার বাতাসে ভাসতে থাকে শুধু লাশের পোড়া গন্ধ। হত্যাকান্ডের পরদিন এলাকাবাসী দাগারকুটি গ্রামেই ৬শ’ ৯৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে গণকবর দেয়। গণকবর ও স্মৃতি স্তম্ভটি ইতিমধ্যেই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে। স্থানান্তরিত স্মৃতি স্তম্ভটি এখন দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে। শহীদদের স্মরনে অনন্তপুর বাজারের পাশে নতুন করে নির্মান করা হয় আরো একটি স্মৃতি স্তম্ভ।

হত্যাকান্ডের শিকার গ্রামবাসীদের শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, স্মৃতিস্তম্ভে নামফলক স্থাপন ও শহীদ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের দাবী শহীদ পরিবারের সদস্যদের।