মেইন ম্যেনু

১৪৪ দিন পর আলো জ্বললো হলি আর্টিজানে

3857374fce7f3775b02005128e139fba-58289c6559532

জঙ্গি হামলার পর পুলিশ সিলাগালা করে দিয়েছিল গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারি। এরপর পেরিয়ে গেছে ১৪৪ দিন। দিনের বেলা তদন্তের কাজে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এই রেস্টুরেন্টে গেলেও রাতে কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। পাশের লেকভিউ ক্লিনিকে যাতায়াত করেছেন অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। রোগী ছিল না বললেই চলে। হলি আর্টিজান ও লেকভিউ ক্লিনিকে ঢোকার একটিই গেট। ওই গেটেরর বাইরে পাহারায় ছিল পুলিশ। সেই হলি আর্টিজানে আলো জ্বলেছে রবিবার (১৩ নভেম্বর)। আদালতের নির্দেশে হলি আর্টিজানের কর্ণধারের কাছে রেস্টুরেন্টের নিয়ন্ত্রণ বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে চলছে ধোয়ামোছার কাজ। তবে নতুন করে সেখানে রেস্তোরাঁ চালু করা হবে না বলে জানিয়েছেন কর্ণধার সাদাত মেহেদী। তিনি জানান, সেখানে তারা আবার বসবাস করবেন।

গত ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজান বেকারি এবাং ‘ও’ কিচেনে হামলা চালায় জঙ্গিরা। জঙ্গিদের হাতে ওইদিন নিহত হন দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক। অপারেশন চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। টানা প্রায় ১১ ঘণ্টা জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল হলি আর্টিজান। জিম্মি করে রাখা হয়েছিল হোটেলের কর্মচারীসহ রেস্তোরাঁয় আগতদের। পরদিন সকালে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’র মাধ্যমে রুদ্ধশ্বাস এই জিম্মি ঘটনার অবসান হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হলি আর্টিজান থেকে ৩২ জনকে উদ্ধার করেন। কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় ৫ জঙ্গিসহ ছয় জন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ২ জুলাই হলি আর্টিজান থেকে সবার লাশ উদ্ধারের পর রেস্তোরাঁটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যেই পিও হিসেবে হলি আর্টিজান বেকারি পরিদর্শন করতেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মালিক বা অন্য কারও হলি আর্টিজানের ভেতরে ঢোকার অনুমতি ছিল না। ফলে হলি আর্টিজানে রাতে আলো জ্বালানোরও কোনও সুযোগ ছিল না।

২০১৪ সালের জুন মাসে চালু হওয়া হলি আর্টিজান বেকারি বিদেশি নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ হিসেবে পরিচিত ছিল। সাদাত মেহেদী, তার স্ত্রী সামিরা আহমেদ, তাদের বন্ধু নাসিমুল আলম পরাগসহ কয়েকজন মিলে এই রেস্তোরাঁটি চালু করেছিলেন। প্রথমে আন্তর্জাতিক চেইন শপ হলি আর্টিজান বেকারির শাখা হিসেবে এটি চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে একই জায়গায় চালু করা হয় ‘ও’ কিচেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি হলি আর্টিজান বেকারির জমি ও ভবনের মালিক সামিরা আহমেদ হলি আর্টিজান ভবনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আদালতে আবেদন করেন। আদালত তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভবনটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর রবিবার মামলার তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ভবনটি সামিরা ও তার স্বামী সাদাত মেহেদীর কাছে বুঝিয়ে দেয়।

এ প্রসঙ্গে সাদাত মেহেদী বলেন, ‘আমরা হলি আর্টিজান বুঝে পেয়েছি। হলি আর্টিজান ভবনে পুনরায় রেস্টুরেন্টে চালু করা হবে না। এটি আগের মতোই বাসা হিসেবে ব্যবহার করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজান বেকারি চালুর জন্য গুলশানের অন্য একটি জায়গায় কাজ চলছে। শিগগিরই সেখানে রেস্টুরেন্টটি চালু করা হবে।’

সন্ধ্যায় হলি আর্টিজান বেকারির সামনে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতোই পুলিশ প্রহরা রাখা হয়েছে। হলি আর্টিজানের ভেতরে আলো জ্বলছে। ভেতরে শ্রমিকরা ধোয়ামোছার কাজ করছেন। বাইরে থেকে জিনিসপত্র সরানোর শব্দ শোনা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘হলি আর্টিজান বেকারি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দিলেও আরও কয়েকদিন পুলিশ পাহারায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। কারণ পুলিশ উঠে গেলে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা এখানে ভিড় করতে পারেন।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গুলশান হামলা একটি স্পর্শকাতর ঘটনা। তদন্তের প্রয়োজনে হলি আর্টিজান বেকারি পুলিশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। আদালতের নির্দেশে তা মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

হলি আর্টিজান বেকারির অ্যাসিস্টেন্ট কুক শিশির বৈরাগী বলেন, ‘আমরা সবসময় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে এসেছি, আমাদের মালিক যেন হলি আর্টিজান ভবনটি ফিরে পান। মালিক ভবনটি ফেরত পেলে আবার হলি আর্টিজান চালু করবেন। আমরা হয়তো আবারও সেখানে কাজের সুযোগ পাব।’