মেইন ম্যেনু

১৪ জন পুরুষ মিলে ধর্ষণ করে নগ্ন করে ব্যায়াম করায়, কিন্তু আজ এই মহিলাই…

1450662581775

তিনি নারীর উপর পুরষতন্ত্রের অত্যাচারের জীবন্ত প্রতীক। আবার তিনিই নারীর অনমনীয় প্রতিবাদেরও এক অনির্বাণ জ্যোতি। তিনি পাকিস্তানের মুখতার মাই।

১৪ বছর আগে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গিয়েছিল মুখতারের সঙ্গে। দিনটা ছিল ২০০২-এর ২২ জুন। পাকিস্তানের মুজফফরগড়ের যে গ্রামে থাকতেন মুখতার, সেখানে ছিল মাস্তোই বালোচ গোষ্ঠীর প্রবল প্রতাপ। আর মুখতার ছিলেন তাতলা গোষ্ঠীর সদস্যা। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে জাতি বিবাদ লেগেই থাকত। সেই বিবাদের জেরেই মুখতারের ছেলে শাকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, সে নাকি মাস্তোই গোষ্ঠীভুক্ত আব্দুল খালিকের মেয়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। সেই অপরাধের শাস্তি হিসেবে মুখতারের ছেলেকে ধরে আনে আব্দুলের লোকজন। তাকে একটি আখ খেতে নিয়ে গিয়ে তার শ্লীলতাহানি করা হয়। ছেলেটি ভয়ে চিৎকার করতে থাকে।

ছেলের চিৎকার শুনে ছুটে যান মুখতার ও তাতলা গোষ্ঠীর অন্যান্য মহিলারা। মুখতারের ছেলেকে তখনও আটকে রেখে চলছে অত্যাচার। বিষয়টি বুঝতে পেরে সোজা আব্দুলের বাড়ি ঘেরাও করেন মুখতার ও তাঁর সঙ্গীরা। আব্দুল মুখতারের ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে তো অস্বীকার করেই, পাশাপাশি তার লোকজন মুখতারকে তুলে নিয়ে যায় একটি আস্তাবলে। সেখানে মুখতারের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে ১৪ জন পুরুষ। তারপর তাঁকে নগ্ন করে ঘোরানো হয় গোটা গ্রাম। বালোচদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে তার পরিণতি কী মারাত্মক হতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হিসেবে মুখতারকে গ্রামের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিল আব্দুল আর তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা।

দীর্ঘ চিকিৎসার পরে যখন সুস্থ হয়ে ওঠেন মুখতার তখন শুরু হয় তাঁর আসল লড়াই। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যারা তাঁর উপর এই অভাবনীয় অত্যাচার চালিয়েছে, তাদের তিনি শাস্তি দেবেনই। লম্বা আইনি ও সামাজিক লড়াইয়ের পর ১৪ জন অভিযুক্ত গ্রেফতার হয় ঠিকই, কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে তারা মুক্তিও পেয়ে যায় সহজেই। কিন্তু মুখতার এত সহজে হার মানতে নারাজ ছিলেন। নিজের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তৈরি করে পাকিস্তানি মেয়েদের শিক্ষা ও প্রগতির ব্যাপারে তিনি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। আত্মজীবনী লিখে নিজের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরেন সকলের সামনে। সেই আত্মজীবনী বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করে। নিজের লড়াইয়ের মাধ্যমে মুখতার হয়ে ওঠেন নারীর প্রতিবাদের আন্তর্জাতিক মুখ।

সম্প্রতি মুখতারকে আবার দেখা গেল পাকিস্তানের একটি ফ্যাশান শোয়ে। নারী শক্তির প্রতীক হিসেবেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখতার। শোয়ের শেষে তিনি উপস্থিত দর্শক ও সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার সমস্ত বোন, যারা আমার মতো পরিস্থিতিতেই জীবন কাটাচ্ছে, তাদের আমি বলতে চাই, পুরুষদের মতো আমাদেরও হৃদয় এবং মস্তিস্ক রয়েছে। আমাদেরও রয়েছে ভাবনা-চিন্তার ক্ষমতা। কাজেই অন্যায়ের দ্বারা অবদমিত না হয়ে, আমি সমস্ত মেয়েকে বলব আশাবাদী হতে।’

নিজের জীবনে অজস্র অত্যাচারের সম্মুখীন হয়েছেন মুখতার। পেয়েছেন প্রাণহানির হুমকি, আর সামাজিক অসম্মান তো রয়েছেই। এমনকী সরকারও অনেক সময়ে তাঁর বিরোধিতা করেছে। কিন্তু তিনি এক অনন্য লড়াকু। নারীর প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন মুখতার মাই।