মেইন ম্যেনু

২৩৬৭ গেরিলার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির ওপর স্থগিতাদেশ বৃদ্ধি

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়ন সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানে হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ বাড়িয়েছেন আপিল বিভাগ। রবিবার (৩০ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দুই সপ্তাহ বৃদ্ধি করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধরী; সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার উমি রহমান।

গত ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত রায় স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের নির্দেশ দেন বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান ও যথাযথ সম্মান প্রদানের নির্দেশও দেয় আদালত।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৯ অক্টোবর প্রথম দফায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিল চেম্বার বিচারপতি।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৬৭ গেরিলা সদস্যকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। তবে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ওই প্রজ্ঞাপনকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করে মন্ত্রণালয় আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সেই নতুন প্রজ্ঞাপন জারির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি ও বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার পঙ্কজ ভট্টাচার্য ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সেই রিটের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট নতুন প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করে রুল জারি করেন।

রুলে নতুন প্রজ্ঞাপনটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। সরকার, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

সেই রুলের ওপর শুনানি শেষে ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দানের নির্দেশ প্রদানের নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।