মেইন ম্যেনু

২৫০০ কি.মি পথ পায়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরলেন নিখোঁজ বৃদ্ধ

1479909336

আহমেদাবাদ থেকে হাঁটতে হাঁটতে মেলায় এসে নিখোঁজ হন বৃদ্ধ। ভারতের পশ্চিমপ্রান্তের রাজ্য গুজরাটে কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘ আড়াই বছর আগে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের লোকেরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার হদিশ পাননি। ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী তাকে ফিরে পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার বোল্লা এলাকায় রক্ষাকালী পুজোকে কেন্দ্র করে চারদিন ব্যাপী বোল্লার মেলা দেখতে গিয়ে পথের ধারে নিখোঁজ অনিল মার্ডিকে খুঁজে পেলেন তার পরিবারের লোকেরা।

ভারতের পূর্ব প্রান্তের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার অন্তর্গত গ্রাম ঘুঘুডাঙ্গা। এই গ্রামেরই বাসিন্দা বৃদ্ধ অনিল মার্ডি(৬১)। দিনমজুরের কাজ করে খাওয়া আদিবাসী এই বৃদ্ধকে প্রতিদিন ভাতের জন্য লড়াই চালাতে হয়। এরই মধ্যে তার দুই মেয়ের বিয়ের জন্য বছর তিনেক আগে সবেধন নীলমনি একবিঘা জমি বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে বন্ধক রাখেন। বন্ধক রাখা সেই জমি ছাড়ানোর টাকার জন্য মেজভাই সুনীল মার্ডি ও ভাইপো সুদন মার্ডির সঙ্গে বছর আড়াই আগে গুজরাট গিয়েছিলেন শ্রমিকের কাজ করতে।

গুজরাটের আহমেদাবাদে গাড়ি থেকে নেমে দোকানে বিড়ি কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই পথ হারিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। তার খোঁজে আহমেদাবাদ থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন তার পরিবার। আশপাশের এলাকায় অনেক খুঁজেও হদিশ না পেয়ে ফিরে পাওয়ার আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন বৃদ্ধের স্ত্রী। গত সোমবার অনিল মার্ডির বোন সুরোজ হেমরম প্রতিবেশীদের সঙ্গে গিয়েছিলেন বোল্লা মেলায়। মেলাতে ঢোকার মুখে রাস্তার ধারে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা দাদাকে খুঁজে পান তিনি। এর পরেই সকলে ধরাধরি করে নিয়ে আসেন বাড়িতে।

অনিল মার্ডি জানিয়েছেন, আহমেদাবাদে বিড়ি কিনতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। বাড়ি ফিরে আসার পয়সার জন্য সেখানে টানা তিনমাস একটি হোটেলে বাসন মাজার কাজও করেছিলেন তিনি। কাজের মজুরি পেয়ে ট্রেন ধরতে আমেদাবাদ স্টেশনে গেলে, কয়েকজন দুষ্কৃতী চাকু দেখিয়ে তার সবকিছু কেড়ে নেয়। এরপর হাঁটতে হাঁটতে প্রথমে দিল্লি। সেখান থেকে বিহারে পটনা, মালদহ হয়ে দিন তিনেক আগে দক্ষিণ দিনাজপুরের বোল্লা এলাকায় আসেন।

গুজরাটের আহমেদাবাদ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বোল্লা, দীর্ঘ ২৫০০ কিলোমিটার এই পথ তিনি পুরোটাই হেঁটে এসেছেন। রাত হলে রাস্তাতেই ঘুমোতেন। খিদে পেলে লোকালয় বা কোনও দোকানে গিয়ে ভিক্ষে করে যা জুটতো তাই খেয়েই বেঁচে ছিলেন। এবেলা