মেইন ম্যেনু

৪৩ বছরেও যে কারণে এখনো ‘চিরসবুজ’ সুন্দরী ঐশ্বরিয়া

কয়েক দিন আগে ৪৩ বছরে পা রেখেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তারপরও এখনও তরুণী নায়িকাদের মতো সমান আকর্ষণীয় বলিউডের পর্দায়।

‘চিরসবুজ’ ঐশ্বরিয়া, যেনো সৌন্দর্যের আরেক নাম। প্রায় ২৫ বছরের অভিনয় জীবনে বলিউডকে একের পর এক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি। শুধু বলিউডই নয়, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনেও সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন তিনিই। এ কারণেই ঐশ্বরিয়া এখনো দর্শকদের কাছে ‘চিরসবুজ’ সুন্দরী।

বলিউডপাড়ায় ৪০ এরপরেও নায়কদের সরব পদচারণা হরহামেশা দেখা গেলেও নায়িকাদের ক্ষেত্রে এটি একেবারেই বিরল। তবে বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই যেনো বাড়ছে অ্যাশের আবেদন।

আর সদ্য সেটার প্রমাণ করেছেন তিনি করণ জোহর পরিচালিত ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিতে অভিনয় করে। ছবিটিতে রণবীরের সঙ্গে জুটি বেঁধে আলাদা নজর কেড়েছেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী। আট বছরের ছোট রণবীর কাপুরের সঙ্গে রোমান্সকে একেবারেই বেমানান মনে করছেন না দর্শকরা।

বোম্বের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করা ঐশ্বর্য তার অভিনয় জীবনের শুরুটা করেছিলেন তামিল ছবি দিয়ে। মণি রত্নমের ‘ইরুবর’ (১৯৯৭) ছবিতে অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্য পান একই ভাষায় নির্মিত ‘জিন্স’ (১৯৯৮) ছবিতে।

তবে শুনলে হয়ত অবাক হবেন, শুরুতে সিনেমাতেই আসতেই চাননি ঐশ্বরিয়া! শখের বশে মডেলিং করতেন। সেখান থেকে পাকেচক্রে অভিনয়ের সাথে জড়িয়ে যাওয়া তিনি।

পড়াশুনায় ছোটবেলা থেকেই ভালো ছিলেন। ঐশ্বরিয়ার ইচ্ছে ছিল ডাক্তারি পড়ার। সেই মতো নিজেকে তৈরিও করছিলেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় জীববিজ্ঞান সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন অভিষেক-পত্নী। ইচ্ছে ছিল মেডিসিন নিয়ে পড়ারও।

তবে কপালে ছিল অন্য কিছুই লেখা। তাই প্রথমে বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব অর্জন, তারপর বিজ্ঞাপন থেকে ধীরে ধীরে বলিউডে জড়িয়ে যাওয়া। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এক সময় বলিউডের রানির সিংহাসনও দখল করেন তিনি।

সঞ্জয় লীলা বানসালী পরিচালিত ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ (১৯৯৯) ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং জিতে নেন ফিল্মফেয়ারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার। ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ অ্যাশের সহ-অভিনেতা হিসেবে ছিলেন বলিউড হার্টথ্রুব সালমান খান। এ ছবির সেট থেকেই শুরু হয় সালমন-অ্যাশ প্রেমের দীর্ঘ উপাখ্যান এবং পরবর্তীতে যার সমাপ্তি ঘটে তিক্ত বিচ্ছেদে।

২০০২ সালে বানসালীর পরবর্তী ছবি ‘দেবদাস’-এ অভিনয় করে দ্বিতীয় বার ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত অভিনয় জীবনের বাজে সময় কাটে এ বিশ্বসুন্দরীর। তখন অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন, বলিউডে অ্যাশ অধ্যায়ের হয়তো সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

তবে ২০০৬ সালে ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুম ২’-এর মাধ্যমে আবারো স্পটলাইটে আসেন অ্যাশ। সালমানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জীবন সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন বলিউডের আরেক প্রভাবশালী ‘বচ্চন’ পরিবারের ছেলে অভিশেককে।