মেইন ম্যেনু

৫০ কোটি মানুষের জন্য ৪০,৫০০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি! সত্যি হবে তো?

adfghj

গত ১৯ নভেম্বর, নোটবাতিলের জেরে যখন দেশবাসী জেরবার, তখনই মুম্বইতে অনুষ্ঠিত হয় ‘গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভ্যাল ইন্ডিয়া’। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান প্রধানমন্ত্রীও। এই উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ‘কোল্ডপ্লে’-র পারফরম্যান্স, যা মিস করেননি বলিউড তারকারাও। দেশের মানুষের হাতে যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা নেই, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসটুকুও যখন তাঁরা কিনতে পারছেন না, তখন এই ধরনের রক কনসার্ট কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরাও।

মূলত এই উৎসবের জাঁকজমকই প্রচারিত হয় সংবাদমাধ্যমে অথচ দেশের ৫০ কোটি মানুষের জন্য সর্বমোট ৪০,৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যে নেওয়া হয়েছে এই উৎসব মঞ্চ থেকেই, সে কথা অনেকেরই অজানা। গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভ্যাল একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিল্পপতিরা, একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সমাজসচেতন শিল্পী-অভিনেতা-অভিনেত্রী, সরকারি পদাধিকারীরা এবং বহু সাধারণ মানুষ। সারা পৃথিবীর প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ এই গ্লোবাল সিটিজেন মুভমেন্টের সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে রয়েছেন ৫ লক্ষ ভারতীয়।

এবছর মুম্বইতে এই অনুষ্ঠান মঞ্চেই দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য বহু টাকার প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন একাধিক নেতা ও শিল্পপতিরা। এই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়িত করতে বিভিন্ন সংস্থার করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি টিমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করবেন গ্লোবাল সিটিজেনের সদস্যরা। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্প রূপায়ণের সময়সীমা রাখা হয়েছে ২০২০ সাল পর্যন্ত। কোনও কোনও প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ হল কি না, তা তো বলবে আগামী সময়। আপাতত এক নজরে দেখে নিন, উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিশ্রুতি—

১. মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সে রাজ্যের বিশেষ নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ও শৌচালয় নির্মাণের জন্য ১৭,১৪২ কোটি টাকা ধার্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রকল্পে উপকৃত হবেন মহারাষ্ট্রের প্রায় ১৯৪ লক্ষ মানুষ।

২. ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স করপোরেশন ২০১৯ সালের মধ্যে বিশ্বে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য এবং তার মধ্যে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে শুধুমাত্র ভারতেই।

৩. গ্রামীণ ভারতে উন্নত প্রযুক্তির শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হিউলেট-প্যাকার্ড বা এইচপি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৮টি মোবাইল ক্লাসরুম তৈরি করা হবে এবং তার মাধ্যমে ১.৫ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন।

৪. আগামী দু’বছরে টাটা ট্রাস্টস-এর পক্ষ থেকে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে উন্নততর জল সরবরাহ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। এমনটাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রতন টাটা।

৫. টয়লেট বোর্ড কোয়ালিশন ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে ২০২০ সালের মধ্যে উন্নত স্বাস্থ্য ও নিকাশী ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য।

৬. তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার ৯০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে মিশন ভগীরথ-এ। ৯৬ লক্ষ মানুষের কাছে ২০২০ সালের মধ্যে পরিস্রুত জল পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

৭. উন্নত জল সরবরাহ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ২ লক্ষ মাইক্রো ফিনান্স ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইডিএফসি ব্যাঙ্ক। এর জন্য ২০০ কোটি টাকা ধার্য করেছে ব্যাঙ্ক।