মেইন ম্যেনু

৬২ বছর পর মানিকগঞ্জে অর্থমন্ত্রী

দীর্ঘ ৬২ বছর পর মানিকগঞ্জে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৫৪ সালের বন্যার সময় তিনি ত্রাণ বিতরণ করতে এসেছিলেন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার আচার্য ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী। স্থানীয় বিজয় মেলা মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মানিকগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ।

বক্তব্যের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী ৬২ বছর আগে মানিকগঞ্জে আসার স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিংগাইর উপজেলার পারিল-নওয়াধা গ্রামের চেহারাটা এখনো তার পরিষ্কার মনে আছে। বন্যার মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছি বন্ধুদের সঙ্গে। এরপর বক্তব্যের পুরোটা সময় তিনি ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সাহিত্যের নানা দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দীনেশ চন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র। যতদিন বাংলা সাহিত্য বেঁচে থাকবে ততদিন এই গুণী সাহিত্যের নাম থাকবে।

তিনি আরো বলেন, দীনেশ চন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস উন্মোচন করেছেন। আবহমান কাল ধরে বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিলুপ্তপ্রায় লোক সাহিত্যকে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে তিনি অনন্যকীর্তি গড়েছেন। এক কথায় তিনি বাঙালিদের ইতিহাস রক্ষা করেছেন।

এতটায় মেধাবী ছিলেন শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখা চালিয়ে গেছেন। বিট্রিশ আমলে জীবিত থাকা অবস্থায় ড. দীনেশ চন্দ্র সেন রায় বাহাদুর উপাধি লাভ করেন।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌসের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি মো. আজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম মহীউদ্দিন, মানিকগঞ্জ পৌরসভা মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, মানিকগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সহ-সভাপতি ও অভিনেতা তাপস চন্দ্র গৌর প্রমুখ।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রতিদিন থাকছে আচার্য ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের ওপর প্রবন্ধ পাঠ, আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

দ্বিতীয় দিন শুক্রবার প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

উল্লেখ্য, ড. দীনেশচন্দ্র সেন ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বকজুড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।