মেইন ম্যেনু

‌‘বাংলাদেশের কারাগারে হলেও আমাদের রাখেন’

rohinga-lrg20161123235720

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় মা-বাবা সন্তানের লাশ নিয়ে আহাজারি করছে, এমন দৃশ্য বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিচ্ছে। সেখানে তারা আর্তনাদ করছে যে, আমাদেরকে বাংলাদেশের কারাগারে হলেও রাখেন।

বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) উদ্যোগে সমিতি ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তৃতা করার সময় এমন তথ্য জানান তিনি। বুধবার দুপুর ১টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপি মানববন্ধনে দলমত নির্বিশেষে সুপ্রিম কোর্টের সব আইনজীবী অংশ নেন।

এ সময় সাধারণ আইনজীবীরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশস্থ মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দাবি করেন। একইসঙ্গে তারা মানবিক কারণে নির্যাতিত উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেয়ারও আহ্বান জানান। দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সাং সুচির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।

সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের আর্তনাদ দেখতে পাই। সেখানে সন্তানের লাশ নিয়ে মাকে আহাজারি করতে দেখা যাচ্ছে। এসব দৃশ্য জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিচ্ছে। সেখানে তারা আর্তনাদ করছে যে বাংলাদেশে কারাগারে হলেও আমাদের রাখেন।

তিনি বলেন, এই কর্মসূচি কোনো দলের নয়। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি সব দলের আইনজীবীই উপস্থিত হয়েছেন। কারণ মানবতাকে বাঁচাতে হবে।

এ অবস্থায় সাধারণ আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশে জাতিসংঘ অফিসের সঙ্গে আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি দেখা করবে বলেও উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

তিনি বলেন, আমরা সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করবো। এছাড়াও অ্যামনেস্টিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আমরা দেখা করে নির্যাতন বন্ধের দাবি জানাবো। তবে প্রাথমিকভাবে আগামী রোববার (২৭ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করছি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামীপন্থী আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমরা অবশ্যই এ ধরনের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাই। তবে একইসঙ্গে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যেন সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি না হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয় সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।

মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত কোটি উদ্বাস্তু লোককে আশ্রয় দিয়েছিল। অথচ আমরা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে পারছি না। নির্যাতিত মানুষ প্রাণভয়ে ফিরে আসলেও আমরা তাদের পুশব্যাক করে ফিরিয়ে দিচ্ছি। অথচ চীন ও ফিলিপাইন এসব রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন- তার দেশে এক ইঞ্চি খালি জায়গা থাকা পর্যন্ত তিনি শরণার্থী গ্রহণ করতে থাকবেন।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসন হুমায়ুন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, আইনজীবী নেতা আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন, অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন প্রমুখ।