মেইন ম্যেনু

Mobile Phone বিসিএস প্রশ্নপত্রে হলো ‘মোবাইল পোন’!

এই মুঠোফোনসর্বস্ব যুগে Mobile Phone বানান লিখতে কারো ভুল হতে পারে? অবচেতনে বা হুটোপুটিতেও তো বানানটি ভুল হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সত্যিই ভুল হলো। আর সেই ভুল সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের হাড়-হিম-করা পরীক্ষা বিসিএসের প্রশ্নপত্রে। সেখানে লেখা হয়েছে ‘মোবাইল পোন’ (Mobile Pone)!

প্রশ্নটি এমন ছিল : Mobile Pone-এর কোনটি input device নয়? শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) ৩৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় এমন ‘হাস্যরসাত্মক’ ভুলটি হয়েছে।

চার নম্বর সেটের (দোলনচাঁপা) ১৮৬ নম্বর প্রশ্নটিতে ‘ফোন’ ‘পোন’-এ রূপান্তরিত হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের অনেকের কাছেই দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে।

প্রথমবারের মতো বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন বাহাউদ্দিন আল ইমরান। তিনি বলেন, ‘গুণগত মানের দিক থেকে প্রশ্নপত্র অনেক ভালো হয়েছে। প্রশ্নে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট যেমন ছিল, তেমনি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, মুক্তিযুদ্ধ, বুদ্ধিজীবী হত্যা কিছুই বাদ যায়নি। যা পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলাদেশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জনে সহায়তা করবে।’

তবে তিনি মোবাইল ফোন বানানে ভুল থাকার বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। বলেন, ‘বিসিএসের মতো এত বড় পরীক্ষায় এ ধরনের ভুল সত্যিই দুঃখজনক।’

‘বর্তমানে দেশের সিংহভাগ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের বড় একটা অংশ। প্রযুক্তির উৎকর্ষ যখন ছুঁই ছুঁই, তখন এ ধরনের ভুল মেনে নেয়া যায় না।’

ওএমআর শিটে (উত্তর প্রদানের জন্য সরবরাহ করা শিট) প্রশ্নপত্রের কোড আগে থেকেই পুরণ থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে অনেককেই। পরীক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, ‘ওএমআর শিটে আগে থেকে প্রশ্নপত্রের কোড ফিল-আপ ছিল। যখন আমাকে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলো, তখন দেখি ওএমআর শিটে ফিল-আপ করা কোড আর প্রশ্নপত্রের কোড মেলে না। এমন পরিস্থিতিতে অনেককেই পড়তে হয়েছে।’

নির্ধারিত সময় না পাওয়ার অভিযোগও করেন আল আমিন। বলেন, ‘২ ঘণ্টা সময়ের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেখা গেছে স্যারেরা প্রশ্ন দেয়ার সময় শেষের দিক থেকে শুরু করেছেন। আর উত্তরপত্র সংগ্রহ করার সময় সামনে থেকে শুরু করেছেন। আমার সিট একেবারে সামনে হওয়াতে প্রশ্ন পেয়েছি সবার পরে, উত্তরপত্র জমা দিতে হয়েছে সবার আগে।’

আরেক পরীক্ষার্থী ইমরান আহমেদ। ফুরফুরে দেখাচ্ছিল তাকে। জিজ্ঞেস করতেই মৃদু হেসে বললেন, ‘পরীক্ষা ভালো হয়েছে।’ প্রশ্নপত্র নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি।

৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। দুই ঘণ্টার এ পরীক্ষা শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে সাড়ে ১১টায় শেষ হয়। ঢাকাসহ দেশের ১৬১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এবারের বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিএসসির তথ্যমতে এই বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজারের বেশি লোকবল বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হবে।

পরীক্ষার হলে হাতঘড়ি, পকেট ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ঘড়ির ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও পর্যাপ্ত দেয়াল ঘড়ির ব্যবস্থা থাকায় সময় জানতে সমস্যা হয়নি পরীক্ষার্থীদের।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩৬তম বিসিএসের বাছাই পরীক্ষায় মুঠোফোন, ইলেকট্রনিক যোগাযোগযন্ত্র, ক্যালকুলেটর, বই-পুস্তক ও ব্যাগসহ পরীক্ষার হলে প্রবেশ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছিল পিএসসি।